কাজের প্রতি অমিতাভ বচ্চনের নিষ্ঠার কথা কারও অজানা নয়। আশির গণ্ডি পার করেও তিনি যেভাবে পরিশ্রম করেন, তা তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। তবে এই অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তির মূলে রয়েছে তাঁর কঠোর জীবনযাত্রা। বলিউডে গুঞ্জন রয়েছে যে, অমিতাভ বচ্চনের বাড়িতে রাত ৮টার পর কোনও অতিথি বা বাইরের মানুষের থাকা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কেন এই অদ্ভুত নিয়ম? সম্প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বরাতে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অমিতাভ বচ্চন মনে করেন, শরীরকে সচল রাখতে গেলে সঠিক সময়ে বিশ্রাম এবং ঘুমের কোনও বিকল্প নেই। বহু বছর ধরে তিনি একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন। মেগাস্টারের ঘনিষ্ঠদের মতে, অমিতাভ রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ার পক্ষপাতী যাতে ভোর ৪টেয় উঠে শরীরচর্চা এবং কাজের প্রস্তুতি নিতে পারেন। আর এই রুটিন বজায় রাখতেই রাত ৮টার পর বাড়িতে বাইরের মানুষের আড্ডা তিনি পছন্দ করেন না।

পেশাদার জীবনের বাইরে অমিতাভ একজন নিবেদিতপ্রাণ পারিবারিক মানুষ। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের সময়টুকু তিনি শুধুমাত্র জয়া বচ্চন, অভিষেক, ঐশ্বর্য এবং নাতনি আরাধ্যার জন্য বরাদ্দ রাখতে চান। বচ্চন পরিবারের একটি অলিখিত নিয়ম হল, রাতের খাবার সবাই একসঙ্গে বসে খাবেন। বাইরের কেউ উপস্থিত থাকলে পারিবারিক আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটে, যা অমিতাভ এড়াতে চান। তাই রাত ৮টার পরেই অতিথিদের বিদায় জানানোর একটি অলক্ষ্য সংকেত বা নিয়ম সেখানে মানা হয়।

অমিতাভের সহ-অভিনেতা রাজা বুন্দেলা থেকে শুরু করে অনেকেই জানিয়েছেন যে, অমিতাভ বচ্চনের সময়জ্ঞান খুবই কঠোর। শুটিং সেটে তিনি যেমন এক মিনিটও দেরি করেন না, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনেও সময়ের অপচয় তাঁর ঘোর অপছন্দ। রাত ৮টার পর ‘জলসা’র দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া আসলে তাঁর সেই শৃঙ্খলারই অংশ।

বিগ বি-র এই কড়াকড়ি নিয়ে একসময় মজার ছলে বলিউডে বলা হতো— “সূর্য ডোবার পর অমিতাভ বচ্চন আর সাধারণ অভিনেতা নন, তিনি তখন নিজের সাম্রাজ্যের একনিষ্ঠ রক্ষক।” সূত্র মারফত জানা যায়, রাত ৮টার পর অমিতাভ নিজের ঘরের নিস্তব্ধতা পছন্দ করেন। ওই সময়ে তিনি পরবর্তী দিনের শুটিংয়ের সংলাপ মুখস্থ করেন অথবা বই পড়েন। এমনকি ওই সময় তিনি ফোন থেকেও দূরে থাকেন বলে জানা যায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *