কলকাতা: আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া মেটানোর দাবিতে স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই জেলায় জেলায় পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হলো আন্দোলনকারীদের। হাওড়া থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর থেকে আসানসোল— সর্বত্রই আশাকর্মীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে।
স্টেশন ও রাস্তায় পুলিশি কড়াকড়ি বুধবার সকাল থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে পুলিশ। অভিযোগ, ট্রেন থেকে নামার পর আশাকর্মীদের স্টেশনের বাইরে বের হতে বাধা দেওয়া হয় এবং ফিরতি ট্রেনে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। অনেক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর ছাড়া হয়। এর প্রতিবাদে ডোমজুড়ের সলপে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা, যার জেরে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।
জেলায় জেলায় ধরপাকড় শুধু কলকাতা সংলগ্ন এলাকাই নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় বাস ও ট্রেন থেকে নামিয়ে প্রায় ৬০ জন আশাকর্মীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আসানসোল, রানিগঞ্জ এবং অন্ডালেও বাস ও ট্রেন আটকে বিক্ষোভকারীদের থানায় বসিয়ে রাখা হয়। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে চৈতালি সর্দার নামে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেলে থানার সামনেই বিক্ষোভ শুরু করেন সহকর্মীরা।
স্বাস্থ্যভবনেও কড়া নিরাপত্তা অন্যদিকে, সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবন চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে পুলিশি বাধা এড়িয়ে যাঁরা পৌঁছতে পেরেছেন, তাঁরা ব্যারিকেডের সামনেই প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
কী দাবি? কী বলছে সরকার? স্থায়ী সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করা এবং সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ২৯ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন আশাকর্মীরা। বুধবার ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। যদিও এই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে তোপ দেগেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘আশাকর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি রয়েছে। তাই ভরসা রাখুন। রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা কোনও ফাঁদে পা দেবেন না।’’
আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভায় সম্পত্তি কর বাড়ার সম্ভাবনা? বুধবার মেয়রের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত
