একশো দিনের কাজে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণImage Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: একশো দিনের কাজের টাকা শ্রমিকদের হাতে যাক, পর্যবেক্ষণে চায় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের মন্তব্য, “যত দ্রত সম্ভব গরীবরা টাকা পান, সেটাই উদ্দেশ্য আদালতের।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, যাঁরা মনরেগায় কাজ করেন, তাঁরা গরিব। তাই টাকার ব্যবস্থা করাই লক্ষ্য। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়,  “কেন্দ্র যাই অভিযোগ করুক সবার আগে, টাকা দিতে হবে।”

কেন্দ্রের তরফে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ ছিল, দুর্নীতি হয়েছে। দোষীদের শাস্তি ও তদন্ত চালাতে হবে। আর গোটা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রাজ্য সেটা প্রমাণিত। তাই রাজ্যের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের বিরুদ্ধেই মূল অভিযোগ ছিল ।

আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী প্রশ্ন করেন “এখন তাহলে তাদের কী উদ্দেশ্য এই মামলা করার পিছনে?” ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তখন জানিয়ে দেন, এই সংক্রান্ত আদালত অবমাননা ও অন্য আরেকটি মামলা একইসঙ্গে শোনা হবে।  তখন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য জানতে চান, “অগাস্ট থেকে অপেক্ষা চলছে। অন্তত স্কিমের টাকা যাতে দেওয়া হয় সেটার ব্যবস্থা হোক। আর কত দেরি করা হবে।” আইনজীবীর কথা শুনে বিচারপতি বলেন, “আমরা সবাই চাই টাকা পৌঁছে যাক শ্রমিকদের হাতে।” ১৭ ফ্রেবরুয়ারি  এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বকেয়া টাকা কেন্দ্রকে মেটাতে হবে। কিন্তু তারপরও এই মামলায় কিছু অমীমাংসিত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য।

এদিন হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ শুনে তৃণমূলের সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “অনৈতিকভাবে কেন্দ্র এই টাকা আটকে রেখেছে। হাইকোর্টে আজকের যে মন্তব্য, তাতে পরিস্কার গরিব লোকরা তাঁদের টাকা পাচ্ছেন না। এটা তাঁদের প্রতি কোনও দয়া করা হচ্ছে না। এটা তাঁদের অধিকার। সেটা এই প্রকল্পের যে নামই রাখা হোক না কেন। ”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “একশো দিনের কাজের টাকা যাতে গরিব মানুষরা পান, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বারবার চেষ্টা করেছেন। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টও বারবার বলেছে, টাকা যাতে গরিবরা পেয়ে যান। কিন্তু তার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এটাও স্পষ্ট করেছে, টাকা যাতে সঠিক লোকের কাছে পৌঁছয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে এই গ্রাউন্ডেই। টাকা নাও, হিসাব দাও। কিন্ত্ হিসাবেই তো গড়মিল।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *