২০২৬ সালেও ভারতীয় মুদ্রা টাকা চাপের মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা, বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার, এফডিআই কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে টাকার দাম ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বছরের শুরুতে ডলার-পিছু ₹৮৫ দামে থাকা টাকা ডিসেম্বরের শেষে নেমে ₹৯১-এর ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ আমেরিকার পাল্টা শুল্কনীতি এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির অগ্রগতিতে স্থগিতাবস্থা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে নতুন শুল্ক আরোপ করার পর থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে পুঁজি সরাতে শুরু করেন। তার জেরে টাকার উপর বাড়ে চাপ। গত এক বছরে ইউরোর তুলনায় টাকা ১৯%, ব্রিটিশ পাউন্ডের তুলনায় ১৪% এবং জাপানি ইয়েনের তুলনায় ৫% দুর্বল হয়েছে। এশিয়ার মুদ্রাবাজারে টাকার পারফরম্যান্স সবচেয়ে দুর্বলদের মধ্যে।
কোটাক সিকিউরিটিজের কারেন্সি বিশেষজ্ঞ অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এফডিআই হল ভারতের পেমেন্ট ব্যালান্সের নোঙর। সেই নোঙর দুর্বল হওয়ায় এখন টাকার ভরসা অস্থির পোর্টফোলিও ফ্লো।” হেডএফসি সিকিউরিটিজের দিলীপ পারমার মনে করেন, “এটি শুধু বাণিজ্য ঘাটতি নয়, মূলধন ঘাটতির সংকট।”
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যে জানিয়েছে, টাকা বাঁচাতে নির্দিষ্ট রেট-ব্যান্ড ধরে হস্তক্ষেপ করবে না। আইএমএফ এই অবস্থাকে “crawl-like exchange regime” বলছে। অর্থাৎ, এমন এক ব্যবস্থা যেখানে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন RBI) মুদ্রার দর পুরোপুরি ‘ফ্রি মার্কেট’–এর উপর ছেড়ে দেয় না, আবার শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণও করে না। বরং ছোট ছোট নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তনের মাধ্যমে মুদ্রার দাম ধীরে ধীরে ওঠানামা করতে দেয়।
বাজারবিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, আগামী কিছু মাসে টাকার দাম আরও কমে ₹৯২–₹৯৩ ছুঁতে পারে।
কেন টাকা দুর্বল হচ্ছে
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে রপ্তানিতে ধাক্কা
- বিদেশি বিনিয়োগ (FDI ও FII) হ্রাস
- ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি অনিশ্চিত
- বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে চাপ
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা
কবে পরিস্থিতির উন্নতি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিতে অগ্রগতি হয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ ফিরতে শুরু করে, তবে ২০২৬ সালের শেষভাগে টাকার দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ₹৮৩–₹৮৪ স্তরে স্থিতিশীল হতে পারে।
