আজ শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম ভোর। সব শোক, দুঃখ, না পাওয়া আর বঞ্চনাকে পার করে আমরা পা দিয়েছি ২০২৬ সালে। এই বছরকে ঘিরে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রয়েছে। সবকিছু বাদ দিলেও ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কার ইস্যুতে গণভোটের দিকে চেয়ে আছে দেশের সব মানুষ। তাদের চোখে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের দুর্বার প্রত্যাশা।
মানুষ পরপর গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি এমন অভিযোগ আছে। তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে প্রথমবার ভোটার হয়েছে, এমন অনেকে এ পর্যন্ত একবারও ভোট দিতে পারেনি। তাদের অনেকে এবার নিজের ভোট দিতে পারবে এমন আশায় আছে। একই সঙ্গে আছে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সঙ্গে তাদের চাওয়া ও প্রত্যাশা পূরণের দিকটিও। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচন আয়োজনে জড়িত সব কর্তৃপক্ষের সচেতন থাকা জরুরি। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণদের সমস্যাগুলো তাদের বিবেচনা করতে হবে। তরুণদের আশা পূরণের বড় একটি জায়গা শিক্ষা খাত। সেখানে যেসব সমস্যা রয়েছে, তার অনেকটাই যেন এ বছর সমাধানের মুখ দেখে। শিক্ষার্থীরা যেন রাজপথ নয়, প্রিয় ক্যাম্পাসকেই আপন করে নিতে পারে। কোনো ধরনের আন্দোলন ও বিক্ষোভে রাজপথে যেন তাদের রাত-দিন থাকতে না হয়। এর ব্যত্যয় হলে চলমান সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে তারুণ্যের স্বপ্নপূরণ না হওয়া মিলে নতুন ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
তরুণরা ছাড়াও সব বয়স, শ্রেণি-পেশার নাগরিকরাও নতুন বছর সামনে রেখে আশায় বুক বাঁধেন। ২০২৬-এর বড় চ্যালেঞ্জ হলো, জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী ও আস্থাশীল করে তোলা। দলগুলোকে জনমুখী কৌশল কর্মসূচি নিতে হবে। মানুষের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন পূরণে দলগুলো কী কী পরিবর্তন এবং সংস্কার করতে চান, তা স্বচ্ছভাবে নাগরিকদের সামনে তুলে ধরতে হবে। আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, বিচার, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিগত বছরের প্রতিকূল দিকগুলো কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখতে চান তারা। এই দিকগুলোয় বর্তমান ও নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন সরকার নজর দিক এমনটি চাইবেন নাগরিকরা। আমাদের চাওয়াও তাই। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিবেশদূষণ বড় ধরনের সংকট হয়ে সামনে এসেছে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের আন্তরিকতা এবং দায়বদ্ধতা বাড়ানো দরকার। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালকের দায়িত্বহীনতা ও আইন প্রয়োগে ব্যর্থতাই এর মূল কারণ। নতুন বছরে, নতুন সরকারের কাছে অন্যতম প্রত্যাশা হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আন্তরিকভাবে কাজ করা, যাতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমে। স্বাস্থ্য খাতে কি বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা হবে, নাকি আগের বছরের সীমাবদ্ধতাগুলো ঘুরেফিরে আসবে? ২০২৫ সাল আমাদের দেখিয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে আমরা কোথায় এগিয়েছি এবং কোথায় পিছিয়ে পড়েছি। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সফলতা থাকলেও অব্যবস্থাপনা, বিত্তবান ও বিত্তহীনের মধ্যে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগের বৈষম্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৬ সাল সেই ভুলগুলো সংশোধনের সুযোগ এনে দিয়েছে। রোগীর অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এই তিন ক্ষেত্রে যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে এ বছর একটি সুস্থ সমাজ গঠনের বছর হয়ে উঠতে পারে।
আমরা একটি স্থিতিশীল দেশ চাই। সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক ঐকমত্যই দেশকে আধুনিক ও প্রগতিশীলতার পথে নিয়ে যাবে বহুদূর। শুভ হোক নতুন বছর। সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। শুভ-২০২৬।
