ইরানে আবারও বিক্ষোভের ঢেউ। দেশের মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসে সর্বনিম্ন দামে নেমে যাওয়ার পর রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়ালের দাম মার্কিন ডলারের তুলনায় তীব্র পতন ঘটায় বাজারে আতঙ্ক দেখা দেয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যায়।
সোমবার ইসফাহান, শিরাজ, মাশহাদ ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ রাস্তায় নামে। অনেক দোকানদার দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভে যোগ দেন। কোথাও কোথাও পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ছুড়তে হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি চাপে পড়ার পর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করেন।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানান, বিক্ষোভকারীদের “যৌক্তিক দাবি” শোনা হবে। তিনি বলেছেন, “জনগণের দাবি শুনুন, প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলুন এবং সমস্যা সমাধানে সরকার দায়িত্ব নেবে।”
মুদ্রা সংকটের কারণ কী?
- রিয়াল ডলারের বিপরীতে নেমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৮–১.৪২ মিলিয়ন রিয়াল প্রতি ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
- মুদ্রার এই পতনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি ও নতুন কর আরোপের আশঙ্কায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
- ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর রিয়াল স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।
পুরনো ক্ষতের পুনরাবৃত্তি
এই বিক্ষোভ ইরানের ২০২২ সালের আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন ২২ বছরের মাহসা জিনা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে প্রবল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। এবারও রাস্তায় নেমেছে বড় সংখ্যক মানুষ।
