বাংলাদেশে তরুণ নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চলতি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে—রবিবার এমনই বড় দাবি করল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তদন্তে দেরি, প্রশাসনিক অস্বস্তি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের লাগাতার চাপ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “এই সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ওসমান হাদির হত্যার বিচার আমরা সম্পন্ন করব। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই চার্জশিট, ট্রায়ালের প্রক্রিয়া—সব শেষ করতে চাই।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন, তার আগেই বিচার শেষ করার এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে?
জাহাঙ্গীরের দাবি, তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে, এবং আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব। তাঁর কথায়, “যাঁরা হত্যার সঙ্গে জড়িত, নাম-ঠিকানা-সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে আনা হবে।”
এর আগেই ইউনূস সরকার ঘোষণা করেছিল—বিচার হবে ফাস্ট ট্র্যাক ট্রাইবুনালে, আর পুলিশের রিপোর্ট পাওয়া মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চ এতে সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি—৩০ দিনের মধ্যে বিচার এবং স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ।
সীমান্ত বিতর্ক: বাংলাদেশ বনাম ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী
তদন্তে মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান এবং তাঁর সহযোগীরা নাকি হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে পালিয়েছে—এমন দাবি করেছে বাংলাদেশি পুলিশ। ঢাকা মেট্রো পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এনএন মহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান—ভারতে পালিয়ে ফয়সালকে ‘পূর্তি’ ও ‘সামি’ নামে দুই ব্যক্তি আশ্রয় দিয়েছে।
কিন্তু এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে মেঘালয় পুলিশ। তাদের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও যোগাযোগ হয়নি। মেঘালয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি।”
একই সুরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিএসএফ (মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার)। বিএসএফ প্রধান ওপি উপাধ্যায় বলেন, “সীমান্ত পেরোনোর কোনও প্রমাণ নেই। দাবি বিভ্রান্তিকর। তবে সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশ—যদি তদন্তে নতুন তথ্য আসে, সে ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।
- নির্বাচনের মুখে বিচার সম্পন্নের ঘোষণা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে
- সন্দেহভাজন পলাতক কি না—এই প্রশ্নে দুই দেশের বক্তব্যে সুস্পষ্ট দ্বন্দ্ব
- তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সময়সীমা—এখন মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
- অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি: নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যার বিচার শেষ করা হবে
- ভারতীয় সংস্থাগুলো বাংলাদেশের পালানোর দাবি অস্বীকার করেছে
- ইনকিলাব মঞ্চের দাবি: ৩০ দিনের মধ্যে বিচার ও কর্মকর্তাদের পদত্যাগ
