রোববার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মহানগর পুলিশ

ছবির উৎস, DMP

ছবির ক্যাপশান, রোববার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর পুলিশ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান দুই আসামী ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে
পালিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও
আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে প্রথমে দেশটির মেঘালয় রাজ্যে আশ্রয় নেয়।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মোঃ
নজরুল ইসলাম।

এর আগে পুলিশের কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন, ্ওই প্রধান আসামীদের অবস্থান সম্পর্কের তাদের জানা নেই।

আজ সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ জানিয়েছে, ওসমান হাদির
হত্যার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। শুটারকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারীসহ মোট ১১জনকে
গ্রেফতার করা হয়েছে। ছয় জনের স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আগামী সাত থেকে দশ
দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মি. ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়
ঘটনার দিনই শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাকে সহায়তাকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর
শেখকে সনাক্ত করে পুলিশ।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ
জানায়, গ্রেফতারকৃত শুটার মি. ফয়সালের পিতা হুমায়ূন কবির, ফয়সালের মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা
পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া
আক্তার লিমা, মো কবির, নুরুজ্জামান নোমানীসহ মোট ১১জনকে গ্রেফতার
করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, ৫২ রাউন্ড গুলি ও ছোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
মোটর সাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট, গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৫৩টি
ব্যাংক একাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার সাক্ষরিত চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, বিভিন্ন
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা
করলে দেখা যায় ফয়সাল ও আলমগীর ঘটনার পরপরই ঢাকা হতে সিএনজিতে করে আমিন বাজারে যায়।
পরে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুর যায়।

পুলিশের দাবি, সেখান থেকে একটি
প্রাইভেট কারে চড়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছে। ঘটনাটি তাদের পূর্ব পরিকল্পিত
ছিল। এ জন্য আসামীদের চিহ্নিত করার আগেই তারা সীমান্ত পাড়ি দেয়।

পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের আগেই একটি ফিলিং
স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্চয় নামের দুইজন তাদের গ্রহণের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। ফিলিপ তাকে
সীমান্ত পাড় করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে জনৈক পুত্তির কাছে হস্তান্তর করেছে। পুত্তি
তাকে সামি নামের একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাছে হস্তান্তর করে। সামী মেঘালয়
রাজ্যের তুরা নামক শহরে তাদেরকে পৌঁছে দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানায় ডিবির
অতিরিক্ত কমিশনার।

মি. ইসলাম বলেন, “আমরা ইনফরমাল
চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সাথে যোগাযোগ করি। তারা ইতোমধ্যে পুত্তি ও সামীকে
গ্রেফতার করেছে। ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ও চারজন স্বাক্ষী ১৬৪
ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *