ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে সাইফুল সরদার ওরফে সাইফেল (৪৯) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। 

শুক্রবার রাতে নিহত সাইফুল সরদারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় ৩০ জনকে এজাহারভুক্ত ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আইয়ুব মিয়া (৫৬) ও শফিকুল মিয়াকে (৩৪) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বিএনপি নেতা সাইফুল সরদার। তিনি ওই গ্রামের হবি সরদারের ছেলে এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পেশায় তিনি একজন কৃষক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে ওই এলাকার জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে সবুজ মিয়া, হাসিব মিয়া, সৈয়দ রাজিব আলী, আইয়ুব মিয়া, নুরু মিয়া, শুভ মিয়া, সুলতান প্রিন্সসহ একদল সশস্ত্র লোক গভীর রাতে এলাকায় তাণ্ডব চালায়। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রথমে সাইফুল সরদারের ঘরে প্রবেশ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে পার্শ্ববর্তী ইসমাইল মোল্যার বাড়িতে গিয়ে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলার পর আসামিরা এলাকার অন্তত ৭-৮টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল সরদারকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত ইসমাইল মোল্যা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আলফাডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জেরে একজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *