চাপের মুখে আরাবল্লী পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার রাজ্যগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে, আরাবল্লী অঞ্চলে নতুন করে কোনও খনির লিজ দেওয়া যাবে না। পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের জারি করা এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, গুজরাট থেকে এনসিআর পর্যন্ত বিস্তৃত আরাবল্লী পাহাড়শ্রেণিকে একটি অবিচ্ছিন্ন ভূতাত্ত্বিক রিজ হিসেবে সংরক্ষণ করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। অনিয়ন্ত্রিত খনন বন্ধ করে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রক একই সঙ্গে ভারতীয় বন গবেষণা ও শিক্ষা পরিষদ (ICFRE)-কে নির্দেশ দিয়েছে, কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই যে সব এলাকায় খনন নিষিদ্ধ রয়েছে তার বাইরেও আরাবল্লীর আরও কোন কোন অঞ্চল ও জোনে খনন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত, তা চিহ্নিত করতে। এই চিহ্নিতকরণ হবে পরিবেশগত, ভূতাত্ত্বিক এবং ল্যান্ডস্কেপ-স্তরের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। পাশাপাশি, গোটা আরাবল্লী অঞ্চল জুড়ে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ফর সাসটেইনেবল মাইনিং (MPSM) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ICFRE-কে। এই পরিকল্পনায় সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব, বাস্তুতন্ত্রের ধারণক্ষমতা, পরিবেশ-সংবেদনশীল ও সংরক্ষণ-অত্যাবশ্যক অঞ্চল চিহ্নিত করার পাশাপাশি পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে। পরিকল্পনাটি নিয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়ার জন্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের সূত্রের দাবি, বর্তমানে যে খনন কার্যকলাপ চলছে, সেগুলির ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই খনন নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ ও নজরদারি চালানো হবে। সরকারের বক্তব্য, আরাবল্লী মরুকরণ রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ এবং গোটা অঞ্চলের পরিবেশগত পরিষেবা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রাচীন পাহাড়শ্রেণির সুরক্ষায় কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট আরাবল্লী পাহাড় ও আরাবল্লী রেঞ্জের একটি অভিন্ন আইনি সংজ্ঞা দেয়। সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্থানীয় ভূভাগের তুলনায় অন্তত ১০০ মিটার উঁচু ভূমিকে ‘আরাবল্লী পাহাড়’ এবং ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা দুই বা তার বেশি পাহাড়ের সমষ্টিকে ‘আরাবল্লী রেঞ্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ কার্যত হাজার হাজার নতুন খনি খোলার পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা আরাবল্লীর পরিবেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনবে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্সে পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন, আরাবল্লী দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হওয়া সত্ত্বেও কেন তার সংজ্ঞা বদলানো হচ্ছে এবং কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বন সমীক্ষা সংস্থার মতো পেশাদার সংস্থার সুপারিশ ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় ও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন পরিবেশ এবং সামাজিক সংগঠন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে কেন্দ্রে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত প্রতিবাদ আন্দোলনেরই চাপে।
আরও পড়ুন: কেন প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কেন্দ্রে আরাবল্লী পর্বত?
