তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যায়ের দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে একসময় টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর ছেড়ে গেলেও ১৪ বছর পর সেই সিঙ্গুরেই আবার বড় বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিঙ্গুরে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন ওয়্যারহাউস প্রকল্পের জন্য সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, নাহার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। প্রতিষ্ঠানটিকে ৯৯ বছরের জন্য ১১.৩৫ একর জমি লিজে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের আশা, সিঙ্গুরে আধুনিক ওয়্যারহাউস স্থাপনের ফলে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মতো ই-কমার্স সংস্থার পরিষেবা আরও মসৃণভাবে পরিচালিত হবে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

২০০৮ সালের অক্টোবরেই সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠী সরে যায়। তখনকার বামফ্রন্ট সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যায়কে শিল্পবিরোধী হিসেবে ট্যাগ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনভাবে ক্ষমতায় আসার সাড়ে ১৪ বছর পরে একই জায়গায় ব্যাপক বিনিয়োগ আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যায়ই, যা রাজ্য সরকারের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নয়া প্রকল্প

রাজ্যে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নিলামের মাধ্যমে ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেএসডাব্লিউ এনার্জি লিমিটেড নিলামে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫.৮১ টাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। এটি পিপিপি (PPP) মডেলে গড়ে তোলা হবে এবং ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট তৈরি হবে। জমি নির্বাচন ও অধিগ্রহণের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে রাখা হয়েছে।

মাদার ডেয়ারি ও বাংলা ডেয়ারি একীভূত

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মাদার ডেয়ারি ক্যালকাটা ও বাংলা ডেয়ারিকে একীভূত করার। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংস্থাটি এখন থেকে ‘বাংলা ডেয়ারি’ নামে পরিচিত হবে। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, মাদার ডেয়ারির দুধ ও দই বহুদিন ধরে রাজ্যে জনপ্রিয়, একীভূত হওয়ায় পরিচালনা আরও শক্তিশালী হবে।

জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

হাওড়ার অঙ্কুরহাটিতে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ০.৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে কারিগরি শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা স্থানীয় যুবসমাজকে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বিভিন্ন শিল্প পার্কে জমি বরাদ্দ

পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প পার্কে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ৩০.৪২ একর, পানাগড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ১.৩৭ একর, হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ২.৭৭ একর ও জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরীতে ১৫৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডোমজুড় জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কে অফিস স্পেসের জন্য ২০,২৬০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো খাতে রাজ্যে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *