খবর অনলাইন ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরেকটি হতাশাজনক সফরের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ সিরিজ কার্যত হারিয়ে বসেছে। এর ফলে ম্যাককালামের কৌশল এবং বহুল আলোচিত ‘বাজবল’ দর্শন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন ইংল্যান্ড স্পিনার মন্টি পানেসার মনে করছেন, ইংল্যান্ড দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে ভারতের প্রাক্তন হেড কোচ রবি শাস্ত্রীই আদর্শ পছন্দ হতে পারেন। সাংবাদিক রবি বিস্তকে দেওয়া এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে পানেসার বলেন, “অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে কীভাবে হারাতে হয়—মানসিক, শারীরিক ও কৌশলগত দিক থেকে—তা রবি শাস্ত্রী ভালোভাবেই জানেন। আমার মনে হয়, ইংল্যান্ডের পরবর্তী হেড কোচ হিসেবে ওঁকেই ভাবা উচিত।”

২০২২ সালে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মেনস ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি ম্যাককালামকে নিয়োগ করেছিলেন, তার আগের অ্যাশেজে ৪-০ ব্যবধানে হারের পর। বেন স্টোকসের সঙ্গে জুটি বেঁধে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছিলেন ম্যাককালাম। প্রথম ১১টি টেস্টে ১০টি জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সাফল্যের গতি থেমে গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের কোনো সিরিজই জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। পরবর্তী ৩৩টি ম্যাচে তারা হেরেছে ১৬টিতে। চলতি অ্যাশেজ সিরিজেও ইংল্যান্ড পিছিয়ে ০-৩ ব্যবধানে, হাতে রয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ। এই সিরিজে ইংল্যান্ডের চুনকাম হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা।

পানেসারের বক্তব্যের পেছনে রয়েছে শাস্ত্রীর কোচিং রেকর্ড। তাঁর কোচিংয়েই ভারত দু’বার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জিতেছে—প্রথমবার ২০১৮-১৯ সালে, যা ছিল ভারতের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরিজ জয়। এর পর ২০২০-২১ সালে অ্যাডিলেডে ঐতিহাসিক ‘৩৬ অল আউট’-এর ধাক্কা সামলে এবং একাধিক চোট-আঘাতে জর্জরিত দল নিয়েও সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ে ভারত।

দায়িত্ব চালিয়ে যেতে এখনও আগ্রহী ম্যাককালাম

যদিও বাইরের চাপ ও সমালোচনা সত্ত্বেও ম্যাককালাম জানিয়েছেন, তিনি এখনও এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে অ্যাশেজে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ যে তাঁর হাতে নেই, সেটাও স্বীকার করেছেন প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। ইসিবির সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত, যার মধ্যে রয়েছে একই বছরে ঘরের মাঠে পরবর্তী অ্যাশেজ সিরিজও।

মেলবোর্নে সাংবাদিকদের ম্যাককালাম বলেন, “আমি জানি না। বিষয়টা তো আমার হাতে নেই। আমি শুধু চেষ্টা করে যাব, এখানে  যেসব শিক্ষা এখনও ঠিকমতো নিতে পারিনি সেগুলো থেকে শিখে নিজেকে বদলাতে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্যদের দেওয়ার কথা।”

সমালোচনা সত্ত্বেও দায়িত্বকে ‘ভালো একটা সুযোগ’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা দারুণ একটা কাজ। দল নিয়ে সারা বিশ্ব ঘোরা, উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করা—সব মিলিয়ে উপভোগ্য। আমি মনে করি, দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় আমরা কিছুটা হলেও এগিয়েছি।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *