অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের বন্ডি বিচে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার পর কঠোর নতুন অস্ত্র আইন এবং মতপ্রকাশ ও জনসমাবেশের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ১৪ ডিসেম্বরের ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন।
হামলার মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে রাজ্য আইনসভা ‘টেররিজম অ্যান্ড আদার লেজিসলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৫’ পাস করে। নতুন আইনের আওতায় কোনো সন্ত্রাসী ঘোষণা জারি হলে পুলিশ সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীক প্রকাশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একবার ঘোষণা জারি হলে নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের জনসমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া কারও উপস্থিতি বা আচরণে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বা হয়রানি কিংবা ভীতিপ্রদর্শনের আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে পারবে।
আইনটি তথাকথিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা’ শব্দগুচ্ছের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স স্বীকার করেছেন, এসব পদক্ষেপ বড় ধরনের পরিবর্তন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তবে তিনি বলেন, বন্ডির ভয়াবহ ইহুদিবিরোধী হামলার পর রাজ্যের বাস্তবতা বদলে গেছে এবং আইনেও সেই পরিবর্তন প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের ব্যবহারের বাইরে কিছু অস্ত্র নিষিদ্ধসহ কঠোর অস্ত্র আইন পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
