মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক কমিশনার থিয়েরি ব্রেতোঁ সহ পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ‘মার্কিন মতামত’ সেন্সর বা দমন করার চেষ্টা করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মার্কিন বক্তা ও কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে ‘বহিরাগত সেন্সরশিপ’ চালানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর সহ্য করবে না।

থিয়েরি ব্রেতোঁকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই আইন ব্যবহার করে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে ব্রেতোঁ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ডাইনি শিকার’ বলে আখ্যা দেন এবং পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকার্থি যুগের সঙ্গে তুলনা করেন। 

ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রয়েছেন সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেটের প্রধান নির্বাহী ইমরান আহমেদ, জার্মান সংগঠন হেটএইডের দুই শীর্ষ নেতা এবং গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইনডেক্সের প্রধান। অভিযুক্তরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে আঘাত।

ফ্রান্স এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে  ডিএসএ ইউরোপে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গৃহীত আইন, যার কোনো বহিরাদেশীয় প্রয়োগ নেই এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে না।

এই ঘটনায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটন ডিএসএ ও অনুরূপ আইনগুলোকে সেন্সরশিপের হাতিয়ার হিসেবে দেখলেও ব্রাসেলস তা অস্বীকার করে বলছে, এসব বিধান মূলত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ব্যবহারকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *