খবর অনলাইন ডেস্ক: ১৭ বছর পর রাজনৈতিক নির্বাসন শেষ করে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার ফিরছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের মাসদেড়েক  আগে তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে জনসমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতিও পেয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতাদের মতে, তাঁর দেশে ফেরা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তাঁকে দলের প্রধান কৌশলবিদ এবং রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়। ফলে তাঁর সরাসরি মাঠে উপস্থিতি বিরোধী শিবিরকে নতুন ভাবে চাঙ্গা করবে বলে মনে করছেন নেতারা।

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এক দিকে সহিংসতার ঘটনা, অন্য দিকে বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি। এর মধ্যেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যোগ দিতে না পারায় বিএনপিকেই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির ধারণা, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে জনসমর্থন আরও বাড়বে, যদি না হঠাৎ কোনো বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিদেশে বসেই তারেক রহমান দেশীয় রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরব ছিলেন। মে মাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের কি দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে? একই সঙ্গে তিনি সময়মতো নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার, বলেছিলেন তারেক

ঢাকার নয়াপল্টনে এক সমাবেশে তারেক রহমান তাঁর ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যে কোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আগে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের নীতির পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গেও ভিন্ন সুরে কথা বলছে। শেখ হাসিনার সরকার ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রাখলেও পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিল।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ তুলে এসেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও তাদের বিরোধ রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির ধারাবাহিক চাপের ফলেই শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় বিএনপি এখন কার্যত প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন আরও পিছিয়ে গেলে তা বিএনপির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ লড়াইয়ের ময়দানে নেমে প্রচার করার ব্যাপারে তারা ইতিমধ্যেই এগিয়ে আছে, যেখানে অন্যান্য দল এখনও সংগঠিত হতে পারেনি।

বগুড়ার দুটি কেন্দ্রে মা-পুত্র প্রার্থী

এরই মধ্যে বিএনপি খালেদা জিয়ার জন্য বগুড়া-৭ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তারেক রহমান নিজে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গেছে। এই আসন থেকেই খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে একাধিকবার জয়লাভ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ১৮ মাস কারাভোগের পর তারেক রহমান দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখানেই পরিবার-সহ বসবাস করছিলেন। দীর্ঘ প্রায় দু’দশক পর তাঁর দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, এই নির্বাচন হতে চলেছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *