খবর অনলাইন ডেস্ক: কেরল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (আইএফএফকে) প্রদর্শনের জন্য ১৯টি ছবিকে সেন্সর ছাড় দিতে অস্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করে কেরলের সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী সাজি চেরিয়ান উৎসব কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সব ছবি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সাজি চেরিয়ান বলেন, “উৎসবের প্রগতিশীল ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক চরিত্র ধ্বংস করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। শিল্পীসত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাতের বিরুদ্ধে সরকার আপসহীন অবস্থান নেবে।” তিনি আরও জানান, উৎসবের সূচি ও বুকলেটে ছবিগুলির নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রতিনিধিদের এই ছবি দেখার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। এই খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে যেসব ছবিকে সেন্সর ছাড় দেওয়া হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব সিনেমার অন্যতম ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত সের্গেই আইজেনস্টাইনের ১৯২৫ সালের নির্বাক ছবি ‘ব্যাটলশিপ পোটেমকিন’।
রাজ্যের সাংস্কৃতিক বিষয়ক দফতরের অধীন কেরল চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি আয়োজিত এই উৎসব এবার ৩০তম বছরে পা দিল।

চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শকের ভিড়। ছবি ‘X’ থেকে নেওয়া।
কোন কোন ছবি সেন্সর ছাড় পায়নি
যেসব চলচ্চিত্রকে সেন্সর ছাড় হয়নি, তার মধ্যে ‘ব্যাটলশিপ পোটেমকিন’ ছাড়াও রয়েছে ‘আ পয়েট: আন কনসিল্ড পোয়েট্রি’, ‘অল দ্যাট’স লেফ্ট অফ ইউ’, ‘বামাকো’, ‘বিফ’, ‘ক্ল্যাশ’, ‘ঈগল্স অফ দ্য রিপাবলিক’, ‘হার্ট অফ দ্য উল্ফ’, ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন গাজা’, ‘প্যালেস্টাইন ৩৬’, ‘রেড রেন’, ‘রিভারস্টোন’ ‘দ্য আওয়ার অফ দ্য ফারনেসেস’, ‘টানেল্স: সান ইন দ্য ডার্ক’, ‘ইয়েস’, ‘ফ্লেম্স’, ‘টিম্বুকটু’, ‘ওয়াজিব’ প্রভৃতি।
এর মধ্যে ‘ব্যাটলশিপ পোটেমকিন’-সহ সাতটি ছবির প্রদর্শনী ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। কারণ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এর প্রদর্শনে অনুমোদন দেয়নি—এমনটাই জানিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
রুশ চলচ্চিত্র ‘ব্যাটলশিপ পোটেমকিন’ যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত, ১৯২৫ সালের একটি নির্বাক ছবি এবং এটি সোভিয়েত বিপ্লবকে কেন্দ্র করে নির্মিত। একই ভাবে, আর্জেন্তিনার রাজনৈতিক চলচ্চিত্র ‘দ্য আওয়ার অফ দ্য ফারনেসেস’ বহু জায়গায় প্রদর্শিত হলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রক তাকে সেন্সর ছাড় দেয়নি।
কেরল চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমির এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, সেন্সর ছাড় না পাওয়া ছবিগুলির মধ্যে তিনটি ফিলিস্তিনি নির্মাতার কাজ, যদিও এক ইজরায়েলি নির্মাতার ছবি ছাড় পেয়েছে। বিষয়টি ঘিরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে।
প্রবীণ পরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন বলেন, “অনেক ছবিই বিশ্ব ক্লাসিক এবং বহু আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। শিরোনাম দেখে ছবি বিচার করা উচিত নয়।”
এ দিকে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক ও উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই পদক্ষেপ শিল্পীসমাজ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর সরাসরি আঘাত।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া আইএফএফকে-র ৩০তম সংস্করণে ৮২টি দেশ থেকে মোট ২০৬টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। সেন্সর ছাড় নিয়ে এই টানাপোড়েন উৎসবের পরিবেশে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক উসকে দিল।
