Chakdaha Municipality: নাগরিক পরিষেবার চরম অবনতিতে চাকদহ পৌরসভায় প্রশাসক, ২১ কাউন্সিলরকে শোকজের পর পুরো বোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য। শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক মহলের টানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌরসভার ২১ জন কাউন্সিলরকে শোকজ করার পর অবশেষে পুরো পৌরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর চাকদহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রধানদের স্বাক্ষরিত একটি বিস্তৃত অভিযোগপত্র পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরে জমা পড়ে। অভিযোগে শহরের বর্জ্য অপসারণ, নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার বেহাল দশা ও যান চলাচল সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দপ্তর গত ২১ নভেম্বর চাকদহ পৌরসভার ২১ জন কাউন্সিলরকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ পাঠায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাউন্সিলররা শোকজের জবাব দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ২১টি ওয়ার্ডের রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় নোংরা জল ও জঞ্জালে ভরে উঠেছে নিকাশি ব্যবস্থা। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিন সমস্যায় পড়ছেন ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহনের চালকরা। পাশাপাশি টোটো ও ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে চরম অব্যবস্থাপনা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ব্যবসায়ী সমিতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যা জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তারা রাজ্য দপ্তরের দ্বারস্থ হন। সরকারি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আজ চাকদহ পৌরসভার পুরো বোর্ডে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন পৌরবোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত কল্যাণীর মহকুমা শাসক অভিজিৎ সামন্তকে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
