সুব্রত গোস্বামী
শীতের আমেজ নেমে এসেছে চারদিকে।
গত সোমবার সকালে কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ১৪ ডিগ্রিতে। তা হলে গ্রামবাংলায় তো পারদ আরও নীচে নেমেছে, বোঝাই যাচ্ছে। শহরের শপিং মলগুলিতে শীতবস্ত্র কেনার হিড়িক—মানুষ উৎসবের আমেজে ব্যস্ত। দরকার থাকুক বা না থাকুক, নতুন পোশাক কিনতেই হবে—এই নেশায় আলমারিতে আর জায়গা থাকে না। এটাই আমাদের সমাজের এক দিকের ছবি।
আর এক পাশে কিছু মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কাঁপতে কাঁপতে সূর্যের জন্য প্রহর গোনেন। একটুখানি উষ্ণতার আশায় তাঁদের দু’চোখে থাকে অশেষ আকুতি। গতকাল আমরা সেই আকুতি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছি।

শিশুদের পোশাক বিতরণ। বীরভূমের গ্রামে গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি। নিজস্ব চিত্র।
রবিবার ৭ ডিসেম্বর আমরা, গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটির সদস্যরা পৌঁছে গিয়েছিলাম বীরভূমের আদিবাসী অঞ্চল—সাজিনা ও মালি গ্রামে। সেখানে ৬০০ জন আদিবাসী মা-বাবার হাতে কম্বল এবং ২০০ জন শিশুর হাতে ফ্রক, সোয়েটার, মিষ্টি ও খেলনা তুলে দিতে পেরেছি। উপহার গ্রহণের পর তাঁদের মুখের হাসি দেখে আমরা উপলব্ধি করেছি— ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত শান্তি ও উষ্ণতা।
যদি মানুষ বুঝতে পারত এই আনন্দের মূল্য, তবে শপিং মলে ভিড় করত শুধু নিজের জন্য নয়, বরং এই অসহায় আত্মজনদের জন্য।
কম্বল পেয়ে তাঁদের মুখে ফুটে ওঠা নিষ্পাপ হাসি—আমাদের মতো ‘পাগল’ মানুষদের কাছে এ এক পরম প্রাপ্তি। তাই তো সমস্ত কষ্ট ভুলে আমরা স্বামীজির দেখানো পথে ছুটে যাই—কখনও বীরভূমে, কখনও বা উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। কারণ এঁরাই আমাদের কাছে জীবন্ত ঈশ্বর।
