উত্তর গোয়ার আরপোরার ‘বির্চ’ নৈশক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্লাব মালিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার হল। লুথরা ভাই—সৌরভ ও গৌরব—অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই অধরা। পুলিশের সন্দেহ, বিপদের আঁচ পেয়েই তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই এ বার ক্লাবটির আর এক অংশীদারকে গ্রেফতার করল গোয়া পুলিশ। ধৃতের নাম অজয় গুপ্ত, যিনি নৈশক্লাবের চার মালিকের একজন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় অজয়কে। তাঁর দাবি, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে দিল্লির লাজপত নগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নৈশক্লাবটির চার শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে তিন জন—সৌরভ লুথরা, গৌরব লুথরা এবং সুরেন্দ্রকুমার খোসলার পাশাপাশি অজয়ও ছিলেন মালিকানা কাঠামোর অংশ। সুরেন্দ্রকুমার খোসলার বিরুদ্ধেও লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করেছে পুলিশ।

গোয়া পুলিশের এক মুখপাত্র পিটিআইকে জানান, “নৈশক্লাবের অন্যতম মালিক অজয় গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে দিল্লিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে এলওসি জারি করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করা হল। এই ঘটনায় অজয়ই ষষ্ঠ ব্যক্তি, যাকে গ্রেফতার করা হল।” অজয়কে এখন গোয়ায় এনে জেরা করা হবে।

এর আগে এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ—চিফ জেনারেল ম্যানেজার রাজীব মোদক, জেনারেল ম্যানেজার বিবেক সিংহ, বার ম্যানেজার রাজীব সিঙ্ঘানিয়া, গেট ম্যানেজার রিয়াংশু ঠাকুর এবং কর্মচারী ভারত কোহলি। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, নৈশক্লাবটিতে কোনও প্রতুল অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। দমকলের ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লাবটি চালানো হচ্ছিল, যা বড় ধরনের গাফিলতির পরিচয়।

এদিকে মূল মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরার অবস্থান এখনও ধোঁয়াশায়। অভিযোগ, তাঁরা থাইল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছে সিবিআই। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্লু কর্নার নোটিস জারি করার আবেদনও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। গোয়া পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে এলওসি জারি করেছে।

গত শনিবার মধ্যরাতের পর ভয়াবহ আগুন লাগে গোয়ার ওই নৈশক্লাবে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের, যাঁদের মধ্যে ২০ জনই ক্লাবের কর্মী। রান্নাঘরে আটকে পড়াই তাঁদের মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানাচ্ছে পুলিশ। অধিকাংশই দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

বির্চ নৈশক্লাবের অগ্নিকাণ্ড কেবলই নিরাপত্তা গাফিলতির বহির্মুখী ছবি তুলে ধরেনি, সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে নৈশক্লাব পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উপর প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও। লুথরা ভাইদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই বাড়ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *