ভারত: ১৭৫-৬ (হার্দিক পাণ্ড্য ৫৯ নট আউট, তিলক বর্মা ২৬, লুঙ্গি এনগিডি ৩-৩১, লুথো সিপামলা ২-৩৮)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৭৪ (১২.৩ ওভার) (ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ২২, অক্ষর পটেল ২-৭, অর্শদীপ সিংহ ২-১৪, জসপ্রীত বুমরাহ ২-১৭, বরুণ চক্রবর্তী ২-১৯)  

খবর অনলাইন ডেস্ক: টি২০ ম্যাচে এটাই দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে কম স্কোর। এভাবে আত্মসমর্পণ করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি ভারতের সমর্থকরা। জয়ের জন্য ১৭৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১২.৩ ওভারেই শেষ হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। তুলল সাকুল্যে মাত্র ৭৪ রান। ১০১ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ফলে এগিয়ে থাকলেন সূর্যকুমারেরা। কটকের বরাবাটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরেও এভাবে জয়, ভারতকে নিঃসন্দেহে অনেকটাই মানসিক বল জোগাবে।

ভারতের ছয় বোলারই উইকেট ভাগ করলেন  

কাঁধের অসুস্থতা সারিয়ে প্রায় মাসখানেক পরে খেলতে নামলেন শুভমন গিল। কিন্তু বিশেষ কিছু সুবিধা করতে পারলেন না। তাতে অবশ্য ভারতের লড়াইয়ের স্কোরে পৌঁছোতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এর জন্য মূল কৃতিত্ব প্রাপ্য অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ড্যের। ২৮ বলে ৫৯ রান করে নট আউট থাকলেন হার্দিক। পরে ১টা উইকেটও নিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন হার্দিক। ব্যাটিংয়ে কিছুটা সহায়তা করলেন তিলক বর্মা (৩২ বলে ২৬ রান) এবং অক্ষর পটেলও (২১ বলে ২৩ রান)।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১০টি উইকেট ভারতের ছ’জন বোলার ভাগ করে নিলেন। দুর্দান্ত বল করলেন তাঁরা – অক্ষর পটেল (৭ রানে ২ উইকেট), অর্শদীপ সিংহ (১৪ রানে ২ উইকেট), জসপ্রীত বুমরাহ (১৭ রানে ২ উইকেট), বরুণ চক্রবর্তী (১৯ রানে ২ উইকেট), শিবম দুবে (১ রানে ১ উইকেট) এবং হার্দিক পাণ্ড্য (১৬ রানে ১ উইকেট)।

দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রান ব্রেভিসের

জয়ের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ব্যাটারই ভারতের বোলারদের মোকাবিলা করতে পারেননি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান ওঠার আগেই অর্শদীপের শিকার হয়ে ফিরে যান কুইন্টন ডি কক। তার পর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকল। কোনো উইকেটে কোনো জুটিই সেভাবে দানা বাঁধল না। সবচেয়ে বেশি রান এল তৃতীয় উইকেটের জুটিতে। আইডেন মার্করাম আর ডেওয়াল্ড ব্রেভিস যোগ করলেন ২৪ রান। স্বাভাবিক ভাবেই এই দু’জনের ব্যাট থেকেই সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এল। ব্রেভিস করলেন ২২ রান আর মার্করাম ১৪ রান। ট্রিস্টান স্টাব্‌সও করলেন ১৪ রান।

অর্শদীপের প্রথম শিকার। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার আর একজন ব্যাটার দু’অঙ্কের রানে পৌঁছোলেন। তিনি মার্কো ইয়ানসেন – ১২ রান। বাকিরা সবাই ফিরে গেলেন এক অঙ্কের রান নিয়ে। দু’জন খাতাই খুলতে পারলেন না – ডি কক এবং কেশব মহারাজ। উইকেট পড়ল ০, ১৬, ৪০, ৪৫, ৫০, ৬৮, ৬৮, ৭০, ৭২ এবং ৭৪ রানে।

প্রাথমিক বিপত্তি কাটিয়ে কিছুটা থিতু ভারত               

এর আগে টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুতেই বিপত্তি। লুঙ্গি এনগিডি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। ভারতের স্কোর ৫ রান হতেই বিদায় নেন শুভমন গিল (২ বলে ৪ রান)। এনগিডির অফ স্টাম্পের বলে মিড অফে মার্কো ইয়ানসেনকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন গিল। আরও ১২ রান যোগ হতেই এনগিডির ঝুলিতে আর একটি উইকেট। এবার শিকার অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ১১ বলে ১২ রান করে মিড অনে আইডেন মার্করামকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সূর্য। দলের আর এক ওপেনার অভিষেক শর্মার সঙ্গী হন তিলক বর্মা।

পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিষেক ও তিলক। তবে এই জুটি বেশি দূর টানতে পারেনি দলের স্কোর। দলের ৪৮ রানের মাথায় লুথো সিপামলার শিকার হয়ে ফিরে যান অভিষেক ১২ বলে ১৭ রান করে। তিলকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অক্ষর পটেল। চতুর্থ উইকেটে ৩০ রান যোগ হওয়ার পরে বিদায় নেন তিলক। এবারও আঘাত হানেন এনগিডি। ৩২ বলে ২৬ রান করে ইয়ানসেনকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিলক। তার পর অক্ষরের পালা। তাঁকে তুলে নেন সিপামলা। ২১ বলে ২৩ রান করে ডোনোভ্যান ফেরেরাকে ক্যাচ দিয়ে যখন ফিরে যান অক্ষর, দলের রান তখন ১০৪।

মারমুখী হার্দিক পাণ্ড্য  

প্রথমে অক্ষর পটেল, তার পরে শিবম দুবে ও সবশেষে জিতেশ শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বেশ মারমুখী খেলতে থাকেন হার্দিক পাণ্ড্য এবং দলকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেন। অক্ষর আউট হওয়ার পর শিবম সঙ্গী হন হার্দিকের। দু’জনে দলের রান পৌঁছে দেন ১৩৭-এ। ৯ বলে ১১ রান করে ফেরেরার শিকার হন শিবম। এর পর হার্দিক জুটি বাঁধেন জিতেশ শর্মার সঙ্গে। দু’জনে অবিচ্ছিন্ন থেকে স্কোর নিয়ে যান ১৭৫-এ। হার্দিক ২৮ বলে ৫৯ রান এবং জিতেশ ৫ বলে ১০ রান করে নট আউট থাকেন।  



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *