বহুতল আবাসনগুলির ভিতরে আলাদা ভোটকেন্দ্র করার কমিশনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট না পাওয়া এবং আবাসনগুলির অনাগ্রহের কারণে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াল নির্বাচন কমিশন। সোমবার ছিল রিপোর্ট পাঠানোর শেষ তারিখ। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও মাত্র দু’টি রিপোর্ট জমা পড়ে।
গত কয়েক মাস ধরে এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। এসআইআর চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দু’টি চিঠি পাঠিয়ে আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তাঁর প্রশ্ন ছিল,“বুথ তো সরকারি বা আধা-সরকারি জায়গাতেই হয়। আবাসনে বুথ করা কীভাবে সম্ভব?”
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, সিদ্ধান্তটি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের, তাই রাজ্যের হাতে খুব বেশি কিছু নেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমিশনই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হলো।
কমিশনের লক্ষ্য ছিল শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার বাড়ানো। পরিকল্পনা ছিল—যে বহুতল আবাসনে কমপক্ষে ৩০০ জন ভোটার রয়েছেন, সেখানে আবাসনের ভিতরে ভোটকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে বাসিন্দাদের বাইরে যেতে হতো না, একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণও সহজ হতো।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। কলকাতার বিভিন্ন আবাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উদ্যোগে বৈঠকও হয় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতাও ফোনে যোগ দেন। অপরদিকে বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত সমস্যা দেখা যায় আবাসনগুলিকেই—তাঁরা কোনও পক্ষই বিশেষ আগ্রহ দেখাননি।
ফলে রাজনৈতিক বিরোধিতা, আবাসনের অনাগ্রহ এবং পর্যাপ্ত রিপোর্ট না পাওয়ার কারণে আবাসনভিত্তিক বুথ তৈরির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন শহুরে ভোটদানের হার বাড়াতে অন্য কোনও পদ্ধতি গ্রহণ করবে কি না, তা এখন নজরে।
আরও পড়ুন: অফলাইন আধার যাচাইয়ে ইতি! হোটেল–ইভেন্ট অর্গানাইজারের জন্য বাধ্যতামূলক QR ভিত্তিক পরিচয় যাচাই
