খবর অনলাইন ডেস্ক: ইরানের কিশ দ্বীপে আয়োজিত একটি ম্যারাথনে নারীদের হিজাব ছাড়া অংশগ্রহণে অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে দুই আয়োজককে গ্রেফতার করেছে সে দেশের বিচার বিভাগ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়।

দক্ষিণ উপকূলের কিশ দ্বীপে আয়োজিত এই ম্যারাথনে প্রায় ২,০০০ নারী ও ৩,০০০ পুরুষ আলাদাভাবে দৌড়ে যোগ দেন। লাল টি-শার্ট পরা কিছু নারী প্রতিযোগীকে স্পষ্টতই হিজাব ছাড়া দেখা যায়, যা ইরানের বর্তমান পোশাকবিধির প্রকাশ্য অমান্যতা হিসেবে সমালোচিত হয়।

এ ঘটনা নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরিবর্তনসমর্থক অনেক নাগরিক এটিকে ইরানি নারীদের স্বাধীনতার প্রতি আকাঙ্ক্ষার আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, দেশটির রক্ষণশীল মহল এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য চ্যালেঞ্জ’ মন্তব্য করেছে। কিশের প্রসিকিউটর এই ম্যারাথনকে ‘সর্বজনীন শালীনতার লঙ্ঘন’ বলেও আখ্যা দেন।

ইরানে নারীদের হিজাববিধি বহুদিন ধরেই সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। কখনও নিয়ম শিথিল করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আবার কঠোর নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। তিন বছর আগে মাহসা আমিনিকে হিজাববিধি ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়। পুলিশের হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর পর দেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দমনপীড়নের মাধ্যমে ওই আন্দোলন থামানো হলেও অনেক নারী এখনও প্রকাশ্যে হিজাব ছাড়াই চলাফেরা করছেন।

এ পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের প্রধান গুলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই সতর্ক করে বলেছেন, হিজাব না-পরা এবং “অশালীনতা উসকে দেওয়ার সংগঠিত প্রবণতা” শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান ও সমাজের পরিবর্তন-চাহিদার মধ্যে দ্বন্দ্ব থেমে নেই, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নারীদের পোশাক-স্বাধীনতা নিয়ে টানাপোড়েন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *