রাজ্যের অন্তঃসত্ত্বা নাগরিক সোনালি বিবির দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান হল অবশেষে। বাংলাদেশে পাঁচ মাস বন্দি থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় আট বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেশে ফিরলেন। মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে তাঁদের প্রবেশের মধ্যেই এক মানবিক লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। তবে সোনালির পরিবারের আরও চার জন—স্বামী দানিশ শেখ, সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই নাবালক সন্তান—এখনও বাংলাদেশে আটক রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
শুক্রবার সূর্য অস্ত যাওয়ার পর বোরখা ও আবির রঙের চাদর জড়ানো সোনালি যখন সীমান্তে পা রাখেন, তাঁর মুখে ক্লান্তি থাকলেও স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট। আট বছরের ছেলেটি শক্ত করে ধরে রেখেছিল মায়ের হাত। সীমান্ত পেরিয়েই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বিএসএফ ক্যাম্পে, এরপর স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়।
চার জন এখনও বাংলাদেশে, ক্ষোভ তৃণমূলের
মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ঋতিকা মণ্ডল ঘোষ ক্ষোভ উগরে বলেন, “আমাদের দুই নাগরিককে ছাড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাকি চার জন কোথায়? যখন প্রমাণিত যে সোনালি ও তাঁর ছেলে ভারতীয়, তখন তাঁদের পরিবারের বাকিরাও ভারতীয়। তাঁদের কেন ছাড়া হল না?”
তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে ডেপুটি হাই কমিশনারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে চলে যান। তাঁর কথায়, “এই মানুষগুলোর সঙ্গে বেইমানি করেছে কেন্দ্র।”
পটভূমি: কীভাবে শুরু এই বিপর্যয়
গত জুনে দিল্লি পুলিশ ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে সোনালিসহ ৬ জনকে আটক করে। পরে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ব্যাক করে। ২০ অগস্ট তাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে গ্রেফতার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ। তখনই গুরুতর উদ্বেগ ছড়ায় সোনালির গর্ভাবস্থা নিয়ে।
২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয়। কেন্দ্র সেই নির্দেশ মানেনি। এরপর আদালত অবমাননার মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। অবশেষে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়—সোনালি ও তাঁর ছেলেকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আদালত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সরকারি পদ্ধতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করে।
এই মানবিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম।
এখন দাবি উঠেছে—সোনালির পরিবারের বাকি চার জনকেও দ্রুত দেশে ফেরাতে হবে।
মানবিকতার জয় হলেও লড়াই এখনও শেষ নয়, বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
