মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় দিনের অর্ধদিবস কর্মবিরতিতে সারা দেশে দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দশম গ্রেডের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মরিবতি পালন করেন তারা।
গতকাল সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন পরীক্ষা নমুনা দেওয়ার জন্য বসে আসেন রোগীরা। এ সময় তারা খুবই বিরক্তি প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ভোগান্তির গাল মন্দও করেন।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো যায়। সেজন্য মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ এখানে পরীক্ষা করাতে যান।
জিসান নামের এক রোগী বলেন, ‘টাকা কম লাগে বলে এখানে আসি। সকালে এসে বসে আছি। শুনলাম ১২টায় নমুনা নেওয়া শুরু করবে। এভাবে দীর্ঘ সময় বসে থাকা খুবই বিরক্তিকর।’
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘ আমরা ৩০ নভেম্বর তারা দুই ঘণ্টা এবং ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করি। ৪ ডিসেম্বর কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা কমপ্লিট শাটডাউনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করি। গতকাল শুক্রবার আমরা আবার সভা করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা চাই না রোগীরা দুর্ভোগে পড়–ক। আমরা দাবি জানাই দ্রুত যেন আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়।’
১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকা কেন্দ্রে সেবা বন্ধ : গত ছয় দিন ধরে স্বাস্থ্য সহকারীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। এতে সারা দেশে টিকা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে সেবা বন্ধ রয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর থেকে তিনদিন তারা শহীদ মিনারে অবস্থান করেন। গত ২ ডিসেম্বর থেকে অবস্থান শুরু করেন মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। টানা তিন দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য সহকারীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেøাগান দেন। পাশাপাশি তারা জিও জিও বলেও সেøাগান দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন।
এর আগে গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন সেøাগান লেখা ফেস্টুন নিয়ে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসেন। ফেস্টুনে লেখা ছিল, ‘গ্রেড বৈষম্যের ঠাঁই নাই, নিয়োগবিধি সংশোধন চাই’, ‘ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কার স্বাস্থ্য সহকারীর অবদান’, ‘পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ, স্বাস্থ্য সহকারীর ঘামের ফসল’, ‘স্বাস্থ্য সহকারীদের অবদান দেশেব্যাপী টিকাদান ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দিতে দিয়ে দাও।’
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতন বৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ ৬ দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। শুক্র-শনিবার সরকারি বন্ধ। এই দুদিন কোনো কর্মসূচি নেই। রবিবার থেকে আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব। দাবি পূরণের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
