আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোরের পর থেকেই রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে শীতের সবজির সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। মৌসুমি রোদের মাঝেই বাজারে ঢুকলে দেখা যায়—ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, শালগমে পূর্ণ দোকানপাট। সরবরাহ বাড়লেও দামের অস্বস্তি ক্রেতাদের মুখে স্পষ্ট। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফুলকপির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আখতার হোসেন। দরদাম শেষে দুইটি ফুলকপি ৫০ টাকা দরে কিনে তিনি বললেন, গত বছর এই সময়ে ৩০–৪০ টাকায় মিলত এসব সবজি; এবার দাম যেন যুক্তির বাইরে।

বাজারের ভেতরে আরও খানিক এগোতেই একই চিত্র। মৌসুমি সবজির পরিমাণ বাড়লেও দাম কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। বিক্রেতাদের ভাষ্য—উৎপাদন এলাকায় আগাম সবজির দামই বেশি। অক্টোবরের বৃষ্টিতে কিছু জমির ক্ষতি হওয়ায় কৃষকেরা এখন তুলনামূলক উচ্চ দামে পণ্য বিক্রি করে ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করছেন। সেই চাপ ঢাকায় পাইকারি হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত গিয়ে দাম ধরে রেখেছে।

টাউন হল এলাকার বাজারেও সকাল ৯টার দিকে একই অবস্থা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মৌসুমের শুরুতে সাধারণত ৩০–৪০ টাকার মধ্যে থাকে। শিম ও বেগুনের কেজি–দর ১০০–১২০ টাকা, মুলা মিলছে ৫০–৬০ টাকায়—দুটি বাজারেই দামের ব্যবধান খুব একটা নেই। ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ চোখে পড়ার মতো হলেও দাম কমছে না বলেই চাপ অনুভব করতে হচ্ছে।

এরপর কারওয়ান বাজারে শীতের সবজির পালস আরও স্পষ্ট। বিশাল বাজারের প্রতিটি আড়তে সবজি জমলেও দামের কঠোরতা যেন কাটছে না। টমেটো ১২০–১৪০ টাকায়, করলা–বরবটি–কাঁচা মরিচ ১০০–১২০ টাকায়, ঢ্যাঁড়স ৬০–৮০ টাকায় এবং পটোল ৫০–৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, উৎস এলাকায় দাম কমলেই রাজধানীর বাজারে স্থিতি আসবে।

পেঁয়াজের বাজার এক মাস ধরে একই দামে স্থির—প্রতি কেজি ১০০–১২০ টাকা। অনেক ব্যবসায়ী আমদানির অনুমতি চাইছেন, তবে কৃষকের স্বার্থে আপাতত আমদানি বন্ধ রাখার সরকারি অবস্থান বজায় রয়েছে। ফলে দাম কমার সম্ভাবনাও নেই বলেই মনে হচ্ছে ক্রেতাদের।

আলুর বাজারে দুটো বাস্তবতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। পুরোনো আলু মিলছে ২৫–৩০ টাকা কেজিতে, কিন্তু আগাম নতুন আলুর কেজি–দর ১৪০–১৬০ টাকায় ঠেকেছে। পরিমাণ কম হওয়ায় দামও বেশি—ক্রেতারা বলছেন, শীতের শুরুর নতুন আলু এখনো অনেকটাই ‘দুর্লভ’।

তবে সবজি–পেঁয়াজের চাপের মধ্যে মাছ–মুরগি–ডিমের বাজার তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০–১৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ২৮০–৩০০ টাকায় এবং ডিম ডজনপ্রতি ১২০–১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কম হলেও দাম এখনো স্থির রয়েছে।

শুক্রবার সকালজুড়ে তিন বাজার ঘুরে পাওয়া সামগ্রিক চিত্র—সরবরাহ বাড়লেও শীতের সবজির দাম কমতে সময় লাগছে। মৌসুমি সবজির রঙে বাজার ভরলেও ভোক্তার ঝুড়িতে এখনো পড়ছে দামের চাপ।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *