
এতে বলা হয়েছে, দোহার, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীতে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল শনাক্ত হওয়ায় এ অঞ্চলে বড় ধরনের ভূকম্পন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, শীতলক্ষ্যা বেসিন বা অববাহিকায় থাকা শিল্পাঞ্চল, আবাসন ও অবকাঠামো মূলত জলাভূমি ভরাট করে গড়ে উঠেছে। এ ধরনের ভূমি ধসের উচ্চঝুঁকিতে থাকে।
ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকার ভেতরের মেগা প্রকল্পই নয়, শীতলক্ষ্যার তীরে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।
একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পনও এ অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বারবার হওয়া ভূমিকম্পে ভূতত্ত্ববিদরা বেশি চিন্তিত।
তারা বলছেন, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বেল্টগুলো যে সক্রিয় হচ্ছে তারই প্রমাণ এগুলো। বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, এটি তারই আগাম বার্তা।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের প্রধান খবর— Ten killed, over 1,000 hurt as earthquake jolts Bangladesh; অর্থাৎ বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে নিহত ১০, আহত হাজারের বেশি।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সংক্রান্ত খবর দেশের পব পত্রিকা গুরুত্ব দিয়ে প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছে।
নিউ এইজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঝারি মানের এই ভূমিকম্পে দেশে দুই শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং এক হাজার জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
নিহতের মধ্যে নরসিংদীতে পাঁচজন, ঢাকায় চারজনের এবং একজন নারায়ণগঞ্জের।
এছাড়া, ভূ-কম্পনে কয়েক ডজন ভবনে ফাটল এবং হেলে পড়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীতে। ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে এটির উৎপত্তি।
তবে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভূমিকম্পটি পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ছিল।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভব করায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বেশিরভাগই বাসা, কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় চলে যান।
এদিকে, ভূমিকম্পের প্রভাবে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। তাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
এছাড়া, বিকেলে মেট্রোরেল সেবা চালুর আগে নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দুইবার ট্রেন পরিচালনা করা হয়।

কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে ঢাকার চারপাশ— সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ৪৮৫ বছরের ভূমিকম্প তালিকাভুক্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র দেখিয়েছে, ঢাকা ও আশপাশে ঐতিহাসিকভাবে মাত্র ছয়টি ভূমিকম্প হলেও গত ১২ বছরে সংখ্যাটা দশে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রস্থলও বদলে গেছে।
আগে যা সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বেশি ছিল। আর এখন মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, দোহার ও নরসিংদীর দিকে সরে এসেছে।
১৮৬৯ থেকে ১৯৩০– এই ৬১ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে পাঁচটি বড় ভূমিকম্প হয়, যার সবই রিখটার স্কেলে ৭-এর উপরে। এরপর দীর্ঘ নীরবতা।
অনেক বিশেষজ্ঞ এটাকেই বিপজ্জনক লক্ষণ হিসেবে দেখেন। যেন বড় একটি চাপ জমে আছে; বের হওয়ার পথ খুঁজছে।
সমস্যা হলো, এ ধরনের সতর্কতা অনেক বছর ধরে শোনা গেলেও বাস্তব উদ্যোগ গতি পায় না।
ঢাকার ছয় লাখ ভবনের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ম মানে না, এটা অনেকবার রিপোর্টে এসেছে। নতুন ভবনেও একই অবস্থা। বিল্ডিং কোড কার্যকর করার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে এটি প্রায় অকার্যকর। জরুরি প্রস্তুতির বিষয়ও বেশ নড়বড়ে।

শুক্রবার বাংলাদেশে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের খবর, তাতে ক্ষয়ক্ষতি এবং বড় ভূকম্পনের আগাম বার্তা — এ সংক্রান্ত একাধিক খবর শনিবার ঢাকার সব সংবাদপত্র বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চব্বিশের পাঁচই অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সারাদেশে চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়ছে। সরকার এবার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
নির্দেশনা পেয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর সব ইউনিটের প্রধানদের বার্তা দিয়েছে, চাঁদা আদায়কালে ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক সাজা দিতে পারবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা মামলা করার সাহস না পেলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় নেবে। পুলিশ নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে, এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নতুন তালিকা প্রায় প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহে তালিকাটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে।
তালিকায় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ সদস্য ও উঠতি বয়সী সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে বলে পুলিশসূত্র জানিয়েছে।

এই খবরে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের জরিপে দেখা গিয়েছিল, উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমি লবণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছর পর এখন ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ বেড়ে ১১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে, আগের তুলনায় যা এক লাখ হেক্টরেরও বেশি।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, উপকূলীয় বাংলাদেশের মাটি আগের মতো উর্বর নেই। ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা শুধু কৃষি উৎপাদন কমাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপও বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি সরকারি সংস্থা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কৃষকরা একসঙ্গে উদ্যোগী না হন, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে উপকূলীয় এলাকার বড় অংশই লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে।
যা কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

এই খবরে বলা হয়েছে, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও জনকল্যাণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে, এই অনুষ্ঠানে তিনি ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেন। এই সময় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান প্রধান উপদেষ্টা এবং সুস্থতা কামনা করেন।

এই খবরে বলা হয়েছে, আলোচিত বাংলাদেশ-ভারত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের খলিল-দোভাল বৈঠক উভয় পক্ষের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
সব কিছু ছাড়িয়ে এটি আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সঙ্কট বা দূরত্ব কমানোর জন্য এই এনএসএ স্তরের সংলাপ বেজ লাইন হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘শীতল মুহূর্ত’ ছিল।
এর মধ্যে ড. খলিলুর রহমান ভারতকে নিশ্চিত করেছেন যে, ‘বাংলাদেশ তার নীতি অনুযায়ী ভারতবিরোধী শক্তিগুলোর জন্য তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।’
এই ধরনের সঙ্কেত ভবিষ্যতে কূটনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এবং সংলাপ মডেলকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।
এছাড়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে এবার। বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার যুদ্ধ, সীমান্ত নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতীকে তালা, ডিগবাজির পথ খোলা— আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম। এ খবরে বলা হয়েছে, জোট করলেও দলগুলোকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)। এ নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়েছে।
কিন্তু ডিগবাজি দিয়ে এক দল থেকে অন্য দলে গিয়ে ভোট করার পথ আগের মতোই খোলা রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আইন সংশোধন করে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হতে হলে অন্তত তিন বছর সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতার বিধান যোগ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আরপিওর ওই অংশটি বিলুপ্তির সুপারিশ করে সংসদে উত্থাপিত হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এতে তিন বছর সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতার বিধান বাদ পড়ে, যা এখনও বহাল আছে।
এদিকে, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও রাজনৈতিক দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিন বছর সদস্য থাকার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছিল।
কিন্তু আরপিও সংশোধনে সেই সুপারিশ রাখেনি ইসি।

