কলকাতা: আর কয়েকমাস পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থী হবেন ধরে নিয়ে লাগাতার নিশানা শানাচ্ছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে মমতাকে হারাবেন বলে একাধিকবার দাবি করেছেন তিনি। আর রবিবার অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দিলেন, ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীই জিতবেন। বললেন, “ভবানীপুরে বিজেপির যিনিই প্রার্থী হবেন, তিনিই জিতবেন।” শুভেন্দুকে অবশ্য পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ঘাসফুল শিবির।
এদিন ভবানীপুর বিধানসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মমতার ‘আউটসাইডার’ মন্তব্য তুলে ধরে সরব হন শুভেন্দু। কয়েকদিন আগে ভবানীপুরে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে উত্তরবঙ্গ থেকে ফোনে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বলেছিলেন, ভবানীপুরে ‘আউটসাইডারদের’ (বহিরাগত) দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে নিজের মন্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমার কথা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি বহিরাগত বলতে এখানে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের কথা বলিনি।” এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “রাজস্থান, পঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট, উত্তর প্রদেশের লোককে বলেছেন বহিরাগত। এটা কেউ বলতে পারে। এরা সবাই ভারতীয়। পরের দিন ঢোঁক গিলেছেন। বুঝেছেন, একটু গোলমাল হয়েছে। এই ভাগ করার রাজনীতি ওঁর রয়েছে, এটা সবাই বুঝেছে। এবার বিজেপির যেই দাঁড়াবেন, জিতবেন।”
সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী হবেন কি না? তখন শুভেন্দু বলেন, “বিজেপিতে এভাবে হয় না। পার্টি ঠিক করবে, কে প্রার্থী হবে।” তারপরই অঙ্ক দিয়ে বোঝালেন কেন ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীই জিতবেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “ম্যাপিংয়েই এক লক্ষ ২০ হাজারের নাম বাদ গিয়েছে। SIR(বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা) হলে কমপক্ষে ৫০ হাজার মৃত ও ভুয়ো ভোটার ও চেতলায় থাকা বাংলাদেশি ভোটারের নাম বাদ যাবে। আর যাদের ক্যানিং ও ভবানীপুরে, ফলতা ও ভবানীপুরে নাম রয়েছে, এবার আর উঠবে না। তারপর তো এই সিটে লিড ৩০ হাজার দিয়ে শুরু করবে বিজেপি।”
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুভেন্দু মনে করছেন, সোমবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর ঘোষণা করতে পারে কমিশন। এদিন শুভেন্দু বলেন, “এমনিতে কয়েক লক্ষ পালিয়ে গিয়েছে। আবার এসআইআর ঘোষণা হলে তো দেখতে হবে না। ৮০ ভাগ এমনি পালাবে। আবার কমিশন যদি ঘোষণা করে, কোনও বাংলাদেশি মুসলিমকে ধরে দিলে ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। তাহলে এই কাজটা বিএলও ও বিজেপিকে করতে হবে না। তৃণমূলই করে দেবে।”
ভবানীপুরে মমতাকে হারাবেন বলে দাবি করে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “ওকে হারাবই। শুধু সাহায্য করুন। ভয় পাবেন না। মিথ্যা মামলা করলে পাশে থাকব।” তিনি যে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলেন, এদিন সেকথা ফের স্মরণ করান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
মমতা হারানোর কথা বলার পর শুভেন্দু পাল্টা চ্য়ালেঞ্জ ছুড়ে দিল তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “দম থাকলে শুভেন্দু অধিকারী নিজে দাঁড়ান ভবানীপুরে। অন্যকে প্রার্থী করে মই কেড়ে নেবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেরবার ৫৬ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। এবার শুভেন্দু বিপরীতে প্রার্থী হলে দ্বিগুণ ভোটে জিতবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
