এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি—এমন ভোটাররা আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আগামী ১৬ অক্টোবর শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ শুনানির দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনা।
কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা নির্বাচন নভেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনা। তার আগে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি না হলে তাঁরা ফের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন—এই আশঙ্কাতেই দ্রুত শুনানির আর্জি জানান মামলাকারীদের আইনজীবীরা। প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন ও প্রশান্ত ভূষণ আদালতকে জানান, আগের উপনির্বাচনেও এই ভোটারদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। পুরভোটের আগেও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছে আদালত। অন্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া আবেদনগুলি পরে বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে এক লক্ষেরও বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তার মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ আবেদনকারীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। এখনও প্রায় ১.৭ লক্ষ আবেদন বিচারাধীন।
এসআইআর-এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ২৭.১৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে মোট ৩৮.৩১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ২২.২১ লক্ষ আবেদন বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, আর ১৬.১০ লক্ষ আবেদন তালিকায় থাকা নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে।
শুনানিতে বিচারপতি বাগচী আপিল নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও সফ্টওয়্যারের কার্যপদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও ন্যায্যতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের তরফেও কিছু সমস্যার কথা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।
আসন্ন পুরভোটের আগে বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা এবং বাদ পড়া ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নেই এখন নজর ১৬ অক্টোবরের শুনানির দিকে।
