ফ্লাই দুবাইয়ের ইজরায়েলগামী বিমানের ককপিটে সহকর্মীর উপর হামলা এবং বিমান ধ্বংসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওমানি সহ পাইলট হামাম আল হামামি। তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই প্রকাশ্যে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের পোস্ট ঘেঁটে থেকে একাধিক নারীবিদ্বেষী এবং হিংসাত্মক বার্তা পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন করার সময় তিনি নারীদের বিরুদ্ধে চলা হিংসার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। ইসলামি আইনের দোহাই দিয়ে কঠোর শাস্তির বিধান, সমকামী বিদ্বেষ, গালিগালাজ ও মহিলাদের যৌন নির্যাতনকেও সমর্থন করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
একটি পোস্টে হামাম লেখেন, ‘নারীদের পায়ের নিচে পিষে ফেলা উচিত। চড় মারা উচিত।’ ২ হাজারেও বেশি পোস্টে হামামের নারীবিদ্বেষী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১০ আগস্টের মধ্যে এই পোস্টগুলি করা হয়েছিল। এক মহিলাকে উদ্দেশ্য করে হামাম লেখেন, ‘আমি তোমার মাথা পা দিয়ে মাড়িয়ে দেব। তোমাকে দিয়ে মেঝ মুছব। অন্যদের জন্য একটা দৃষ্টান্ত বানিয়ে ছাড়ব। তারপর তোমাকে ডিভোর্স দেব।’ মনে করা হচ্ছে, যে মহিলাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এহেন বার্তা দিয়েছেন, তিনি তাঁর স্ত্রী।
তদন্তকারীদের সূত্রের খবর, জেরায় হামাম স্বীকার করেছেন, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ফ্লাই দুবাইতে যোগ দেওয়ার আগেই সে এই পরিকল্পনা করেছিল। জানিয়েছে, গাজার প্রতিশোধ হিসাবেই তিনি এটা করেছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, বিমানের যাত্রীদের সঙ্গে নিজেকে শেষ করে একজন শহিদের মতো মৃত্যুবরণ করা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন হামাম। তবে ক্রু-র এক সদস্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। সেবার জর্ডনের আকাশে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। জুন মাসে ফ্লাইদুবাই-এর ডিউটিতে তেল আভিভে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের তথ্যও সংগ্রহ করেছিলেন এই ‘জেহাদি’।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
