তিন তান্ত্রিকের ত্রহ্যস্পর্শও জুড়তে পারেনি প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ। যদিও তান্ত্রিকরা যুবতীকে বলেছিলেন, প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণ ‘কালো জাদু’। কোনও এক অদৃশ্য ক্ষতিকর কালো ছায়া তাঁকে ঢেকে ফেলেছে। তাই যুবতীর জীবন থেকে কালো ছায়া আর কালো জাদুর প্রভাব কাটানোর একমাত্র উপায় তান্ত্রিকদের তন্ত্রমন্ত্র আর যজ্ঞ। পরিচিত এক দম্পতির উপর ভরসা করে, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জুড়তে একে একে তিনজন তান্ত্রিকের কাছে যান যুবতী।
কিন্তু কালো জাদু বা কালো ছায়া কোনওটিরই প্রভাব তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর ভেঙে যাওয়া সম্পর্কও জোড়েনি। বরং ওই দম্পতির মদতে তিন তান্ত্রিক তাঁর টাকা ও গয়না হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ যুবতীর। এমনকী, তিনি টাকা, গয়না ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়, অভিযোগ এমনই। শেষপর্যন্ত এক মহিলা-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধেই তিনি পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারিণী ওই যুবতী আনন্দপুরের পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা। গত এপ্রিল মাসে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় ওই যুবতীর। তারপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কসবার রাজডাঙার বাসিন্দা তাঁর এক পরিচিত দম্পতি যুবতীর ‘বন্ধু’ হয়ে পাশে দাঁড়ান। তাঁরাই যুবতীকে বলেন, কেউ কালো জাদু করে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙেছে। কোনও তান্ত্রিকই পারেন সেই ভাঙা সম্পর্ককে জুড়তে। এই সম্পর্ক ভাঙার জন্য কে বা কারা দায়ী, তাও তান্ত্রিকই জানাতে পারবেন। তাঁদের কথায় ওই যুবতী দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে এক তান্ত্রিকের কাছে যান।
সেখানে তিনি যজ্ঞের জন্য হাজার দশেক টাকা খরচও করেন। কিন্তু যুবতীর দাবি, তান্ত্রিক কোনও সুরাহা করতে পারেননি। এরপর ওই দম্পতির হাত ধরেই তিনি ওই অঞ্চলেরই অন্য এক তান্ত্রিকের কাছে যান। ওই তান্ত্রিকও অশুভ শক্তি ছাড়ানোর নামে ‘ক্রিয়া’ করেন। এরপর ওই দম্পতি যুবতীকে বলেন, ‘ক্রিয়া’য় সোনা লাগবে। তাঁর কাছ থেকে ওই দম্পতি সোনার গয়না নেন। সোনা ও মুক্তোর নেকলেসও দম্পতিকে দেন যুবতী। কিন্তু তাতেও তিনি কোনও ফল পাননি। এরপর ওই দম্পতি যুবতীকে কসবার সুইনহো লেনের আরেক তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যান। ওই তান্ত্রিকও টাকার বিনিময়ে ‘ক্রিয়া’ আর যজ্ঞ করেন। কিন্তু তাতেও কোনও ফল মেলেনি।
জুলাই পর্যন্ত অনেক চেষ্টায় প্রেমিককে ফেরত না পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চান দম্পতির কাছে। কিন্তু তাঁকে মারধর, এমনকী, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর প্রথমে তিনি আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানান। পরের পদক্ষেপে ডিসি (ইস্ট)কেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। পুলিশকর্তার হস্তক্ষেপে সম্প্রতি আনন্দপুর থানার পুলিশ এই ব্যাপারে মামলা দায়ের করে। ওই দম্পতি ও তিন তান্ত্রিককে জেরার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
