ভারত: ২১১-৬ (অভিষেক শর্মা ৬১, তিলক বর্মা ৫১, আরাফত মিনহাস ৩-২৫, আহমেদ ড্যানিয়েল ২-৪৩)

পাকিস্তান: ১৯২-৬ (হাসান নওয়াজ ৯৬, অক্ষর পটেল ২-২৯, ওয়াশিংটন সুন্দর ২-২৯, শিবম দুবে ২-৩৩)

– বিজ্ঞাপন –

নিসশিন (জাপান): অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মার ঝোড়ো অর্ধশতরানের পর স্পিনারদের কার্যকর বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে সোনা ধরে রাখল ভারত। শেষ দিকে হাসান নওয়াজের দুর্দান্ত ৫১ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে ম্যাচ জমে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।

হাল ধরলেন অভিষেক

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৫ রান তোলে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। বৈভব সূর্যবংশী দ্বিতীয় ওভারে ফিরে গেলেও অভিষেক পাকিস্তানের বোলিংকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন। মাত্র ২৭ বলে ৭টি ছক্কা ও চারটি চারের সাহায্যে ৬৮ রান করেন তিনি।

অভিষেক আউট হওয়ার পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় পাকিস্তান। ছয় ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে তারা তুলে নেয় ঈশান কিষাণ ও শ্রেয়স আইয়ারের উইকেট। ১৬ ওভারে ভারতের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৪২।

এশিয়ান গেমস-এ ক্রিকেট ফাইনালে পাকিস্তানকে হারাল ভারত। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের গতি বদলালেন তিলক ও শিবম

তবে শেষ চার ওভারে আবার গতি বদলে যায় ম্যাচের। তিলক বর্মা ও শিবম দুবে পাকিস্তানের স্পিনারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বড় শট খেলতে থাকেন। দুজনে মিলে শেষ চার ওভারে ছয়টি ছক্কা মারেন। ১৮তম ও ১৯তম ওভারে টানা চার বলে চারটি ছক্কাও আসে। শেষ ওভারের প্রথম বলেই দুবে আউট হলেও তিলক ইনিংসের শেষ তিন বলে ৬, ৬, ২, ১ রান তুলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ৩১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

নওয়াজের ঝোড়ো ব্যাটিং আশা জাগিয়েছিল পাকিস্তানের  

ভারতের ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। সাহিবজাদা ফারহান ও মাআজ সাদাকতের ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুতই ৩৯ রানে তিন উইকেট হারায় পাকিস্তান।

সেখান থেকে ম্যাচের রং বদলে দেন হাসান নওয়াজ। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও একটি সহজ ক্যাচ পড়ে যাওয়ার পর যেন পাল্টে যান তিনি। অভিষেক শর্মা ও রবি বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে পর পর তিনটি ছক্কা মেরে পাকিস্তানের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন। আয়ুবও তখন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। দুজনে মিলে ৪৮ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন, যার মধ্যে নওয়াজের অবদান ছিল ৫৭ রান।

১৫তম ওভারে শিবম দুবে আয়ুবকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৮৬ রান। নওয়াজ তখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভারতের হাতে তখনও ছিল জসপ্রীত বুমরাহর একটি ওভার।

জয় এল ভারতের। ছবি BCCI ‘X’ থেকে নেওয়া।

শেষরক্ষা হল না পাকিস্তানের  

১৯তম ওভারে বল হাতে নিয়ে বুমরাহ পাকিস্তানের শেষ আশাটুকুও প্রায় শেষ করে দেন। পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২ বলে ৪৪ রান, কিন্তু ওই ওভারে মাত্র ১১ রান দেন তিনি। ইয়র্কার ও ধীরগতির কাটারে পাকিস্তানের ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ দেননি।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। শিবম দুবে প্রথম বলে চার এবং পরের বলে ওয়াইড দিলেও তৃতীয় বলে দুর্দান্ত ইয়র্কার করে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। নওয়াজ চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ বলে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৯৬ রানে থামেন। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ২০৬ রানে।

এই জয়ের ফলে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের জয় এখন ৪-৩। ধীর ও স্পিন-সহায়ক নিসশিনের পিচে দুই দলই মূলত স্পিনারদের ওপর নির্ভর করেছিল। তবে ভারতের ব্যাটিংয়ে ছিল বেশি অভিজ্ঞ ও আক্রমণাত্মক টি-টোয়েন্টি ব্যাটার। দুই দলের ছক্কার সংখ্যাতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়—ভারত ১৫টি এবং পাকিস্তান ১০টি ছক্কা মারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *