
Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট
আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার শিরোনামে গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের খবর, হেফাজতে ইসলামের নতুন দাবিনামা ও নাগরিক জীবনের নানা দুর্ভোগ। একই সঙ্গে ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ফুটপাত দখল, যানজট, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সমন্বয়হীন নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে।
দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের সব কনটেইনার টার্মিনাল একে একে চলে যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে। চারটি টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইতিমধ্যে দেওয়া বা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এখন চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ এবং বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল- এই তিনটিতেও বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
পতেঙ্গা, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও আইসিডি- এই তিন টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ আগেই দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের সভায় আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে টার্মিনালগুলো হস্তান্তরের তীব্র বিরোধিতাকারী সংগঠনগুলো নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বন্দর, কাস্টমস ও প্রেসক্লাব এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা একের পর এক কর্মসূচি নিচ্ছেন।


হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পুরোনো ও বর্তমান দাবিনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংগঠনটির দাবিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২০১০ সালে দেওয়া ১৩ দফা দাবির তুলনায় গত আগস্টে সরকারকে দেওয়া নতুন ৯ দফায় নারীদের প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু দাবির ভাষা, পরিধি ও রাজনৈতিক তাৎপর্যেও পরিবর্তন এসেছে।
হেফাজত নেতারা বলছেন, নারীদের বিষয়ে ইসলামের মূলনীতি ঠিক রেখেই তারা নারীর শালীনতায় বিশ্বাসী। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, দাবিনামায় পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই, কারণ ইসলাম ধর্মের মূলনীতির সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট।
তবে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০ সালের দাবিগুলোর মধ্যে ধর্মীয় বিষয় ছাড়াও নারী-পুরুষের সামাজিক আচরণ, গণমাধ্যম ও মূর্তি-ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন বিষয় ছিল। নতুন ৯ দফায় এসবের কিছু বাদ পড়েছে, আবার কিছু দাবির ভাষা ও বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, হেফাজতের নতুন দাবিনামায় চারটি বড় ধরনের পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০১০ সালের আল্লামা শফীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক দাবিগুলোর মধ্যে নারীকে নিয়ে কোনো দাবি নেই। নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, বিজাতীয় সংস্কৃতি, মূর্তি-ভাস্কর্য, গণমাধ্যমে দাঁড়ি-টুপি নিয়ে ব্যঙ্গ, শাহবাগ ও ব্লগার প্রসঙ্গও নতুন তালিকায় নেই। ধর্মীয় দাবিগুলোর মধ্যেও কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নিউ এইজ পত্রিকার খবর – Prisons overcrowded with inmates double the capacity অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি নিয়ে কারাগারে সংকট।
বাংলাদেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও ১ অক্টোবর সেখানে বন্দী ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৭৭ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেশি বন্দী থাকায় কারাগারগুলোতে তীব্র আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে। বন্দীদের প্রায় ৬৭ শতাংশ বিচারাধীন এবং ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ দণ্ডপ্রাপ্ত।
অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাবও উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগারে ৩১৪ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কারা হেফাজতে মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ৪৪টি অ্যাম্বুলেন্স, কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৩টি। ফলে অনেক সময় অসুস্থ বন্দীদের অ্যাম্বুলেন্সের বদলে পিকআপ ভ্যানে হাসপাতালে নিতে হয়। কারাগারগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকাকে বন্দীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। অধিকারকর্মীরা দ্রুত কারাগারের চিকিৎসাব্যবস্থা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল মানুষ রাজধানীতে আসছেন। বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের চাপে কমছে ভূমি, সবুজ ও নাগরিক পরিসর। একই সঙ্গে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সংকট বাড়ছে।
ফুটপাথ দখল, যানজট, ভাঙাচোরা গণপরিবহন ও নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত রিকশায় নগরজীবন আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে নেওয়া মেগা প্রকল্পও প্রত্যাশিত সমাধান দিতে পারেনি; কিছু ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার সংকটের বড় কারণ বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। নগর ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা না করলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক সেবার ঘাটতি ও নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর – Spare parts, equipment shortages leave Biman ‘vulnerable’ অর্থাৎ খুচরা যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের ঘাটতিতে সংকটে বিমান।
খবরে বলা হয়েছে, বোয়িংয়ের ২০২৫ সালের একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান উড়োজাহাজগুলো রক্ষণাবেক্ষণে সংকটে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির কারণে মেরামত প্রয়োজন এমন কিছু যন্ত্রাংশ নিয়েও উড়োজাহাজ চালাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা কর্মীরাও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটির হার অন্যান্য বোয়িং বহরের তুলনায় বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে বিমানের ৭৮৭ উড়োজাহাজে ব্রেক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি। স্পয়লার ব্যবস্থার ত্রুটিও প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
বিমানের ৭৭৭ উড়োজাহাজে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও কার্গো দরজার ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বলা না হলেও, চলতি বছর ২৫টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর এত বড় বহর নির্ভরযোগ্যভাবে সচল রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

টাইমস অফ বাংলাদেশের খবর – Ill, injured or dying? Better avoid Friday অর্থাৎ অসুস্থ, আহত বা মৃত্যুপথযাত্রী হলে শুক্রবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
এ খবরে মূলত রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভোগান্তির কথা বলা হয়েছে। গুরুতর পায়ের আঘাত নিয়ে ভর্তি নূর ইসলামের ক্ষত প্রতিদিন চিকিৎসক দেখলেও শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তাঁর কাছে আসেননি। বাংলাদেশে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক সেদিন দায়িত্বে থাকেন না। ফলে মূলত প্রশিক্ষণার্থী ও জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর চিকিৎসাসেবা নির্ভর করে এবং অস্ত্রোপচার, রোগী পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর রোগী ভর্তি হলে শুক্রবার প্রায় পুরো দিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। জরুরি অস্ত্রোপচার দেরি হওয়ায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থতা কোনো নির্দিষ্ট সময় মেনে আসে না, তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু রাখা সম্ভব।
স্বাস্থ্য মন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার চিকিৎসক উপস্থিতি ও সেবা কিছুটা বেড়েছে। তবে পঙ্গু হাসপাতালে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার সেখানে জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও নিয়মিত ওয়ার্ডভিত্তিক চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নার্সিং সেবা সীমিত থাকে। দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় শুধু জরুরি বিভাগ দিয়ে এই চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে অনেক রোগীকে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ১৬টিতে জমি, ভবন, শিক্ষক ও আবাসনসহ নানা সংকট রয়েছে। পাঁচটি কলেজের নিজস্ব জমি নেই, ফলে নিজস্ব ভবনও হয়নি। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে সদর হাসপাতালের ভবনে, সীমিত শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সুবিধা নিয়ে।
সব কটি কলেজেই শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। মাগুরা মেডিকেল কলেজে ৬২ শতাংশ শিক্ষক পদ খালি। পটুয়াখালীতে আবাসন না থাকায় ৬৭ জন ছাত্রী অব্যবহৃত একটি ভবনে থাকছেন। হাসপাতাল ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগও অনেক কলেজে পর্যাপ্ত নয়।
সংকটের মধ্যেই নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পর অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারও নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে। ফলে নতুন কলেজ বাড়ানোর আগে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট দূর করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্থাপিত ৯৯টি অক্সিজেন প্লান্টের মধ্যে ৬১টি অকার্যকর। অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ প্লান্ট বন্ধ থাকায় বর্তমানে মাত্র ৩৮টি চালু রয়েছে।
বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬-এ উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ৬৪ জেলা হাসপাতাল, ২৮ বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ৭ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের মাধ্যমে স্থাপিত ৭০টি প্লান্টের মাত্র ৯টি বর্তমানে চালু।
প্লান্টগুলো অকার্যকর থাকায় হাসপাতালগুলোকে সিলিন্ডার ও তরল অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারকে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সাম্প্রতিক মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্বে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার হুমকির মধ্যে যেখানে দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা, সেখানে বিরোধ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। কারণ, জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বে একের পর এক লংমার্চ কর্মসূচি পালন অব্যাহত আছে।
একই সঙ্গে দলগুলোর নেতাদের পালটাপালটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই উত্তাপ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের ‘সমঝোতা’ হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হলে পরাজিত শক্তি তার সুযোগ নিতে পারে।
তারা কেউ কেউ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপেরও পরামর্শ দিয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যদিও এ ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের শিক্ষক সংকটে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫২ দশমিক ১৮ শতাংশ পদ শূন্য।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে বিশ্বজুড়েই প্রতিষ্ঠানগুলোয় সুশাসন নিশ্চিতে গুরুত্ব দেয়া হয়। যথাযথ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নজরদারি, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ আরো অনেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু গত দেড় দশকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বিষয়গুলো উপেক্ষিত ছিল। দীর্ঘদিনের সুশাসনের দুর্বলতায় শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বাড়ালেও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং পদ্ধতিগত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যা সব স্তরে শিক্ষার মানকে ব্যাহত করছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে আছে প্রধান শিক্ষকের সংকট, পর্যাপ্ত জনবল নেই জেলা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মতো মাঠপর্যায়ের মনিটরিংযুক্ত পদগুলোয়।
বিভিন্ন জায়গায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে আছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আছে দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণায় জালিয়াতির মতো ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি দেশে আসতে শুরু করেছে।
রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি এখন নির্মাণপর্ব পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ও কমিশনিং পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি পৌঁছানো মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু নয়।
প্রথম ইউনিটকে নিরাপদে ক্রিটিক্যালিটিতে নেয়া, জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা এবং ধাপে ধাপে পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার আগে আরো বেশ কিছু কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সর্বশেষ সরকারি উপস্থাপনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের কমিশনিং অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ।
ইতোমধ্যে প্রাথমিক কমিশনিংয়ের বড় অংশ শেষ হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি-সংক্রান্ত ধাপও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ গ্রিডে দেয়ার প্রস্তুতি এখন অনেকটাই এগিয়ে।
রূপপুরের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পে ৯৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপর গত দেড় বছরে মোট খরচের আর কোনো হিসাব করা হয়নি। এর মধ্যে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে সঞ্চালনের কথা থাকলেও ঠিক কবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা কেউ এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।
