২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী (গান্ধী জয়ন্তী) উপলক্ষে তাঁর জীবন ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এমন কিছু ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো, যা আজও বিশ্ববাসীকে অনুপ্রেরণা জোগায়:

১. প্রথম কারাবাস ও ট্রেনের সেই ঘটনা (১৮৯৩)

গান্ধীজির জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অন্যতম ঘটনা ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ১৮৯৩ সালের ৭ জুন পিটারমারিটজবার্গ স্টেশনে প্রথম শ্রেণির টিকিট থাকা সত্ত্বেও বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই অপমানই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘ অহিংস আন্দোলনের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হয়ে ওঠে।

– বিজ্ঞাপন –

২. চম্পারণ ও খেদা সত্যাগ্রহ (১৯১৭–১৯১৮)

ভারতে ফিরে গান্ধীজি চম্পারণ ও খেদায় কৃষকদের সমস্যাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। চম্পারণে নীলচাষিদের ওপর অত্যাচার এবং খেদায় খরার মধ্যেও কর আদায়ের প্রতিবাদে তাঁর সত্যাগ্রহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

৩. ডান্ডি মার্চ ও লবণ সত্যাগ্রহ (১৯৩০)

১৯৩০ সালে ব্রিটিশদের লবণ আইনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ডান্ডি মার্চ শুরু করেন গান্ধীজি। সবরমতি আশ্রম থেকে ডান্ডি পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রার পর সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে তিনি ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনটি দেশজুড়ে স্বাধীনতার দাবিকে আরও জোরালো করে।

৪. ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন ও ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (১৯৪২)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট বম্বের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে গান্ধীজি ব্রিটিশ শাসনের অবসানের ডাক দেন। তাঁর আহ্বান—‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (করব অথবা মরব)—ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অন্যতম স্মরণীয় স্লোগানে পরিণত হয়।

৫. বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস (২০০৭)

গান্ধীজির জন্মদিন ২ অক্টোবরকে ২০০৭ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। তাঁর অহিংসা ও শান্তির দর্শনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অন্যতম বড় নিদর্শন এটি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *