
বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী। একই দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা সংকটের প্রতিবাদে শত শত স্কুলে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষক, দমকলকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সরকারি কর্মচারীরা একদিনের ধর্মঘট পালন করেন। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর দাবি, এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ অংশ নেন। তবে পুলিশের হিসাবে, শুধু রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, ২০২৭ সালে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন না বাড়িয়ে সরকার প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে টানা চতুর্থ বছর সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্থগিত থাকবে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর মেয়াদে এটি হবে অষ্টমবারের মতো বেতন বৃদ্ধিতে স্থবিরতা।
ইউনিয়নগুলোর দাবি, দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতার কারণে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা দুই অঙ্কের হারে কমেছে। এ অবস্থায় তারা ৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবারের (সিজিটি) সাধারণ সম্পাদক সোফি বিনেট বিক্ষোভকে সরকারের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ বা চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, এই ক্ষোভ সহজে থামবে না এবং সরকারকে বাজেট পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তী ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব প্রত্যাহারে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও দেন তিনি।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষক ও স্কুল কর্মচারী ধর্মঘটে অংশ নেন। দেশটির শিক্ষকরা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় গড়ে কম বেতন পান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য বেসামরিক কর্মচারীদের মধ্যে অংশগ্রহণের হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে। হাসপাতালগুলোতে উপস্থিতির হার ছিল আরও কম। ধর্মঘটে অংশ নিলে এক দিনের বেতন কেটে নেওয়ার আশঙ্কাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের হার কম থাকার একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দমকলকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। চলতি গ্রীষ্মে ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি তাদের কর্মপরিবেশের সংকটকে সামনে এনেছে বলে জানান তারা। এদিকে ধর্মঘটের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিল দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
