প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করে বঙ্গ রাজনীতিতে নির্লজ্জতার নজির রেখেছিলেন নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। এবার তার পালটা দিতে গিয়ে সেই হুমায়ুনকেই কবরে পাঠালেন বিজেপি যুব মোর্চার সদস্যরা! মঙ্গলবার এমন অভিনব কর্মসূচি দেখা গেল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডের কাছে। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে বিধায়কের কুশপুতুল বানিয়ে, তাতে জুতোর মালা পরিয়ে, মাটি খুঁড়ে কবর দেওয়া হল। শুধু এতেই থামেননি তাঁরা। প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এমন অভিশাপ বর্ষণের জন্য নওদার বিধায়ককে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও ওঠে।

আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন। নিজের জিতে আসা আসনে আমজনতা উন্নয়ন প্রার্থী হয়েছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে। কিন্তু প্রচার শুরু করতে না করতেই তাঁদের দলের একাধিক কর্মী, সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে ক্ষুব্ধ হুমায়ুন প্রচার থেকে সরে আসেন। এরপর গত রবিবার তিনি শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বলেন, ‘‘ক্ষমতা পেয়ে হাতির পাঁচ পা দেখেছে! উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব, যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যায়। আল্লা তার টিকিট কাটিয়ে দিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন নিজের দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করেছিলেন, সেদিনও দোয়া চেয়েছিলাম, উনি যেন ক্ষমতাচ্যুত হন, বর্তমান থেকে প্রাক্তন হন। আল্লা সেকথা শুনেছেন। মহারাষ্ট্রের অজিত পওয়ার, মাধবরাও সিন্ধিয়া কিংবা ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীদের যেমন হয়েছিল, একেও সেভাবে পৃথিবী থেকে যেতে হবে। আস্ফালন, অহংকারের পতন হবে।”

আরও পড়ুন:

এমন বেনজির, বেলাগাম মন্তব্য নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয় রাজনৈতিক মহলে। প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার অভিনব কর্মসূচি করতে দেখা গেল দুর্গাপুরের যুব মোর্চার কর্মী, সমর্থকদের। খাটে করে হুমায়ুন কবীরের কুশপুত্তলিকা নিয়ে প্রথমে ঘোরানো হয় সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড। সকলের হাতে হাতে ছিল কালো পতাকা। কুশপুত্তলিকায় পরানো হয় জুতোর মালা। তারপর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাতেই প্রতীকীভাবে কবর দেওয়া হল সেই কুশপুত্তলিকা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তর্ক-বিতর্ক, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণও নতুন নয়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করার মতো মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের দাবি, কী কারণে এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে হুমায়ুন কবীরকে। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে হবে। বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শুভম সিং বলেন, “রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, তর্ক-বিতর্ক হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হুমায়ুন কবীরের আমরা কঠোর শাস্তি চাইছি। পাশাপাশি তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে হবে। নইলে আগামী দিনে এর বিরুদ্ধে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *