চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম বন্ধের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বিজ্ঞপ্তি জারি করে বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার ওই নার্সিংহোম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, এই ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান পেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। তার মধ্যে ওই শিশুর অস্ত্রোপচার করা শেখ সাইদুল হকও ভুয়া চিকিৎসক বলে জানা গিয়েছে। আবার বর্ধমানের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর পদেও ছিল। তা কীভাবে? খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী শেখ আক্তার আলি বলেন, “আমার দুই ছেলে। সাইদুল বড়। ১৫-২০ বছর আগে বাড়ি থেকে বিহারে গিয়েছিল ডাক্তারি পড়বে বলে। আমরা লেখাপড়া তেমন বুঝি না। ও কীভাবে ডাক্তারি পড়েছিল, কতদিন পড়েছিল সেসব কিছুই জানিনা। পরে বছর ৫-৬ আগে শুনতে পেলাম ছেলে বর্ধমানে এসে ডাক্তারি করছে।”

আরও পড়ুন:

গত আগস্ট মাসে ওই নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। কিন্তু নার্সিংহোম বা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা সেই সময় নেওয়া হয়নি। শিশুর পরিবারের লোকজন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরে অবস্থানে বসেন ‘বিচার চাই’ দাবিতে। পরে স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্তে নামে। তাতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের হাতে। শিশুর অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ভুয়া বলে জানা যায়। শুধু তাই নয়, রাজ্যে আরও কয়েকজন ভুয়া চিকিৎসকের হদিশ পায় স্বাস্থ্য দপ্তর। এরপরেই ওই নার্সিংহোম পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

জানা গিয়েছে, ভুয়া চিকিৎসক সেখ সাইদুল হক বছর কুড়ি আগে বর্ধমানের তালিতের আলমপুরের বাড়ি ছেড়ে বিহারে গিয়েছিল। জানিয়ে গিয়েছিল ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছে। তার পর থেকে বাড়ির সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ রাখতো না সাইদুল। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী শেখ আক্তার আলি বলেন, “আমার দুই ছেলে। সাইদুল বড়। ১৫-২০ বছর আগে বাড়ি থেকে বিহারে গিয়েছিল ডাক্তারি পড়বে বলে। আমরা লেখাপড়া তেমন বুঝি না। ও কীভাবে ডাক্তারি পড়েছিল, কতদিন পড়েছিল সেসব কিছুই জানিনা। পরে বছর ৫-৬ আগে শুনতে পেলাম ছেলে বর্ধমানে এসে ডাক্তারি করছে।” যোগাযোগ না থাকলেও ছেলের উন্নতিতে আনন্দ পেতেন। ছেলের জাল সার্টিফিকেট বলে জানতে পারছেন এখন। সেই প্রসঙ্গে বলেন, “জাল সার্টিফিকেট হলে, কোনও অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক সরকার। এখানে আমার কিছু বলার নেই।”

ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল বিধাননগর থানায় ইতিমধ্যে এফআইআর করেছে রাজ্যের পাঁচ জন ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর সাইদুল অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রেনেসাঁ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। নবাবহাট এলাকায় যে আবাসনে তিনি থাকতেন সেখানেও তালাবন্ধ। দিন সাতেক ধরে বেপাত্তা। সেই শিশুর বাবা-মা, পরিজনরা আশায় আছেন বিচার পাবেন।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *