ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র সফর অবশেষে শেষ হল। ধারাবাহিকের সমাপ্তির সঙ্গেই পর্দা নামল টেলিপাড়ার অত্যন্ত চর্চিত ও জনপ্রিয় খল-চরিত্র ‘সুদেব’-এর। জি বাংলার এই ধারাবাহিকে ‘সুদেব’ চরিত্রে নিজের সাবলীল অভিনয় দিয়ে রাতারাতি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন অভিনেতা মৈনাক ঢোল। কাজের এই বিশেষ অধ্যায় সমাপ্তি পেতেই সোশাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করলেন অভিনেতা।

ফেসবুকে নিজের অভিনয় জীবনের এই যাত্রাকে স্মরণে রেখে মৈনাক লেখেন, “আজ আমার এই সুন্দর যাত্রাটার অন্তিম লগ্ন। সুদেব শুধুই একটা পর্দার চরিত্র ছিল না, আমার পুরো অভিনয় জীবনেরই এক অত্যন্ত বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে।”

তবে শুরুতে এই ধরণের জটিল চরিত্রে অভিনয় করাটা যে একেবারেই সহজ ছিল না, তা খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন অভিনেতা। তিনি জানান, শুরুর দিনে সুযোগটা পাওয়ার পর নিজের মনকেই প্রশ্ন করেছিলেন—‘আমি কি সত্যিই এই চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পারব?’ কারণ, তাঁর কেরিয়ারে এই ধরণের চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় ছিল একদম প্রথমবার।

চরিত্রটিতে নিখুঁত হয়ে ওঠার সেই সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মৈনাক লেখেন, “এই পথ পেরোতে আমাকে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। নিজেকে নতুন করে ভাঙা আর গড়ার মধ্য দিয়েই এগিয়েছি। তবে পুরো কঠিন পথটায় আমার হাত ধরে রেখেছিল টিম, পরিচালক এবং সহকর্মীরা।”

প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়, দেবলীনা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। সেই সঙ্গে পরিচালক জয়দীপ কর্মকার ও চিত্রনাট্যকার পরমিতা সেনগুপ্তের ধৈর্যশীল নির্দেশনার কথা স্মরণ করে পুরো টেকনিক্যাল টিম ও সহ-শিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মৈনাক।

টেলিভিশনের পর্দায় খলনায়কের ভূমিকা থাকলেও দর্শকদের ভালোবাসাই যে তাঁর সেরা পুরস্কার, তা স্মরণ করে অভিনেতা যোগ করেন, “সুদেব চরিত্রটিকে আপনারা যেভাবে আপন করে নিয়েছেন, যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন—তা আমার অভিনয় জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।”

তবে সফর শেষ হলেও ভক্তদের মন খারাপ করতে বারণ করেছেন অভিনেতা। আগামীর আশ্বাসে পোস্টের শেষে মৈনাক লেখেন, “প্রতিটি শুরুরই একটি সমাপ্তি থাকে। তাই এই গল্পটাও শেষ হল। তবে শেষ মানেই তো জীবন থেমে যাওয়া নয়! খুব শিগগিরই আবার দেখা হবে অন্য কোনও নতুন গল্প ও একেবারেই নতুন কোনও অবতারে। আপাতত সুদেবকে বিদায়।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *