সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা, বেতন বা আয় জমা নেওয়া কিংবা দৈনন্দিন খরচ সামলানো—সব ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যাঁদের নগদ লেনদেন তুলনামূলক বেশি, তাঁদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন থাকে—সেভিংস অ্যাকাউন্টে কত টাকা নগদ জমা করলে আয়কর দফতরের নজরে পড়তে পারে?

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে অঙ্কটির কথা শোনা যায়, তা হল ১০ লক্ষ টাকা। তবে মনে রাখা জরুরি, ₹১০ লক্ষ কোনও ‘করমুক্ত সীমা’ নয়। বরং একটি আর্থিক বছরে নির্দিষ্ট ধরনের অ্যাকাউন্টে নগদ জমার মোট পরিমাণ ₹১০ লক্ষ বা তার বেশি হলে তা Statement of Financial Transactions (SFT)-এর আওতায় রিপোর্টযোগ্য হতে পারে।

– বিজ্ঞাপন –

একবারে নয়, সারা বছরের হিসাব

আয়কর দফতরের SFT নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির এক বা একাধিক সেভিংস বা অন্যান্য যোগ্য অ্যাকাউন্টে একটি আর্থিক বছরে—অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত—মোট ₹১০ লক্ষ বা তার বেশি নগদ জমা হলে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস সেই তথ্য রিপোর্ট করতে পারে। নিয়মটি একটি মাত্র লেনদেনের উপর নির্ভর করে না; সারা বছরের যোগফল বিবেচনা করা হয়। একই ধরনের একাধিক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একত্রে বিবেচিত হতে পারে।

অর্থাৎ, কেউ যদি বছরে পাঁচবার ₹২ লক্ষ করে নগদ জমা করেন, প্রতিবারের অঙ্ক ₹১০ লক্ষের কম হলেও মোট জমা ₹১০ লক্ষ হয়ে যাবে এবং তা SFT রিপোর্টিংয়ের আওতায় পড়তে পারে।

₹১০ লক্ষ জমা করলেই কি আয়কর নোটিস?

না। ₹১০ লক্ষ বা তার বেশি নগদ জমা রিপোর্ট হওয়া মানেই আয়কর নোটিস, জরিমানা বা অতিরিক্ত কর চাপবে—এমন নয়। SFT-এর মাধ্যমে আয়কর দফতরের কাছে নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য পৌঁছয়। সেই তথ্য করদাতার আয়কর রিটার্ন, AIS এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে। AIS-এ SFT-সংক্রান্ত তথ্যও দেখা যায় এবং করদাতাকে রিটার্নে সঠিক তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সমস্যা তৈরি হতে পারে তখনই, যখন অ্যাকাউন্টে জমা পড়া নগদের সঙ্গে ঘোষিত আয় বা আর্থিক পরিস্থিতির বড় অসঙ্গতি দেখা যায় এবং টাকার উৎসের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না যায়।

বিজ্ঞাপন

টাকার উৎসের প্রমাণ রাখুন

নগদটি বৈধ উৎস থেকে এলে তার যথাযথ নথি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—

  • হিসাবভুক্ত ব্যবসার নগদ বিক্রির টাকা
  • নথিপত্র-সমর্থিত কৃষিজ আয়
  • সম্পত্তি বা অন্য কোনও সম্পদ বিক্রির অর্থ
  • আগে থেকে সঞ্চিত ও ঘোষিত আয়ের টাকা
  • বৈধ উপায়ে পাওয়া উপহার
  • উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থ
  • নথিভুক্ত ঋণ ফেরতের টাকা

তবে নগদ ব্যাঙ্কে জমা করলেই তা নিজে থেকে ‘করযোগ্য আয়’ হয়ে যায় না। টাকার প্রকৃত উৎস কী এবং সেই উৎসের উপর কর প্রযোজ্য কি না, সেটিই মূল বিষয়।

₹৫০ হাজারের PAN নিয়ম আলাদা

আর একটি বিষয় নিয়েও অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। ব্যাঙ্কে এক দিনে ₹৫০ হাজারের বেশি নগদ জমা করলে PAN উদ্ধৃত করার নিয়ম রয়েছে। এই নিয়মের সঙ্গে বছরে ₹১০ লক্ষের SFT রিপোর্টিং সীমার কোনও গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। একটি হল নির্দিষ্ট লেনদেনে PAN সংক্রান্ত নিয়ম, অন্যটি হল সারা বছরের নির্দিষ্ট নগদ জমা রিপোর্ট করার সীমা।

₹২ লক্ষের নগদ গ্রহণের নিয়মও মনে রাখুন

আবার, আয়কর আইনে কিছু ক্ষেত্রে ₹২ লক্ষ বা তার বেশি নগদ গ্রহণের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে নগদ জমার ₹১০ লক্ষের SFT সীমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করলেই নিয়ম এড়ানো যায়—এমন ধারণাও ঠিক নয়।

আসল কথা কী?

সেভিংস অ্যাকাউন্টে নগদ জমার ক্ষেত্রে কোনও সার্বজনীন ‘নিরাপদ সীমা’ নেই, যার নীচে থাকলেই আয়কর দফতরের কোনও প্রশ্ন উঠবে না। ₹১০ লক্ষ বা তার বেশি বার্ষিক নগদ জমা রিপোর্টযোগ্য হতে পারে, কিন্তু সেটি নিজে কোনও অপরাধ বা স্বয়ংক্রিয় করের কারণ নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল টাকার বৈধ উৎস, তার যথাযথ নথি এবং আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে লেনদেনের সামঞ্জস্য। তাই শুধু ₹১০ লক্ষের সীমার নীচে থাকার চেষ্টা নয়, নগদ লেনদেনের স্বচ্ছ আর্থিক রেকর্ড রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *