শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি থেকে বিহার লাগোয়া গলগলিয়া পর্যন্ত ৪ লেনের রাস্তা তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। খরচ হবে দু-হাজার কোটি টাকার বেশি। ৩১ কিলোমিটারের লম্বা এই রাস্তা বাগডোগরা, পানিটাঙ্কি, খড়িবাড়ি, গলগলিয়াকে যুক্ত করবে। এই ৩১ কিলোমিটারে তিনটি ব্রিজ, একটা রোড ওভার ব্রিজ, অনেকগুলো আন্ডারপাস এবং সার্ভিস রোড থাকবে। নেপালের ভদ্রপুর লাগোয়া গলগলিয়া কাঠমান্ডুর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এই এলাকায় নেপালের সঙ্গে ব্যবসা-পাতি গলগলিয়া দিয়েই হয়। রাস্তার পাশাপাশি গলগলিয়ায় একটা ট্রাম্পপোর্ট হাবও তৈরি করবে কেন্দ্রীয় সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রক।

এই রাস্তাটা তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের অনেক উপকার হবে। যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে। এটা একটা দিক। উঠে আসছে আর একটি দিক। এটা শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে কেন্দ্রের বহুমুখী পরিকল্পনার একটা অংশ। তাই বাজেট বরাদ্দ না থাকলেও বিশেষ তহবিল তৈরি করে এই রাস্তার কাজে হাত দিচ্ছে কেন্দ্র। শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছে কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত।
নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের কথা ভেবেই নতুন রুটের কথা রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করছে না।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির দাবি, উত্তরবঙ্গে আধুনিক পরিকাঠামোর দিক থেকে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল হাইওয়ে টোয়েন্টি সেভেনের বিকল্প হিসাবে আর একটি রাস্তা তৈরি অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই রাস্তার অনুমোদন দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিলিগুড়ি, উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে চিকেনস নেক এই মুহূর্তে কেন্দ্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে শিলিগুড়ি এবং চিকেনস নেককে ঘিরে কম করেও ১২ হাজার কোটির প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্র। টানেল রোড, তিনটে স্ট্র্যাটেজিক রোড, সেনাঘাঁটি এবং বায়ুসেনা ঘাঁটির আধুনিকীকরণ। কয়েকদিন আগে শিলিগুড়ি সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই কেউ কেউ বলছেন, চিকেনস নেক আর বেশিদিন থাকবে না। কিছুদিন পরে একে ডাইনোসরস নেক বলে ডাকতে হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *