প্রলয়ে তছনছ হয়ে গিয়েছে সব কিছু। কোথাও এতটুকু জীবনেও আশা নেই। হড়পা বানে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া সেই নেপালেই এবার ঘটল মিরাকেল। মহাপ্রলয়ের ১১দিন পর ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হল এক বৃদ্ধাকে। পাশাপাশি আপার ত্রিশূলী-১ টানেলে উদ্ধার করা হয়েছে এক বিদেশি নাগরিককে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ত্রিশূলী নদীর বন্যায় আশপাশে যত বাড়ি ছিল তার বেশিরভাগই গুঁড়িয়ে গিয়েছে। নুয়াকোটে বিদুর পুরসভার অন্তর্গত বৃদ্ধার চারতলা বাড়িও এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। বাড়িটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। উদ্ধারকারীরা অনুমান করেছিলেন, এতদিন পর সেখানে কারও বেঁচে থাকার কথা নয়। সেই সময় কার্যত মাটিতে মিশে যাওয়া বাড়ি নামের ওই ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শোনেন উদ্ধারকারীরা। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কোনওমতে মহিলাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
VIDEO | Nepal: A woman, Chandrika Shrestha, rescued alive today from flood-hit Betrawati.
(Source: Armed Police Force)
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/d8jp61yd2p) pic.twitter.com/doWk9LkJV1
— Press Trust of India (@PTI_News) September 5, 2026
ইতিমধ্যেই মহিলার পরিচয় জানা গিয়েছে, তিনি চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা। বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। উদ্ধারকারীদের মতে, অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তবে এত দীর্ঘসময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েও উদ্ধার হওয়া আলৌকিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি আপার ত্রিশূলী-১ টানেলে আরও এক জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন। যদিও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে বিশদে কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের জেরে ভয়ংকর হড়পা বান নামে ত্রিশূলী নদীতে। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় উত্তর নেপাল। এই বন্যায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩৪৪ জনের। নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি। যার মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। সময় যত গড়াচ্ছে এই সংখ্যাটা লাফিয়ে বাড়ছে। ভয়ংকর এই পরিস্থিতির মাঝে চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে প্রিয়জন হারানো মানুষগুলির মনে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কিনা জোরকদমে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
