খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় নাগরিকদের জন্য উজবেকিস্তান সফর আরও সহজ হয়ে গেল। ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা এখন ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন উজবেকিস্তানে থাকতে পারবেন। ৩০ আগস্ট তাসখন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠকে এই ঘোষণা করেন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ।

দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এই নতুন নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তবে ঘোষণাটি সাম্প্রতিক হওয়ায় কবে থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং প্রবেশের ক্ষেত্রে ঠিক কী কী শর্ত থাকবে, তা উজবেকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা উচিত।

– বিজ্ঞাপন –

ভারতীয়দের জন্য সহজ হল উজবেকিস্তান সফর

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন উজবেকিস্তানে থাকতে পারবেন। ফলে অল্প কয়েক দিনের সফরের বদলে দেশটির ঐতিহাসিক শহর, স্থাপত্য, খাবার এবং সংস্কৃতি ধীরেসুস্থে দেখার সুযোগ মিলবে।

দুই দেশের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিরজিয়োয়েভ ভারতকে উজবেকিস্তানের নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের সংখ্যাও কয়েক বছরে সাত গুণ বেড়েছে।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ছে। উজবেকিস্তানে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় অধ্যয়ন কেন্দ্র রয়েছে। দেশটিতে যোগচর্চাও জনপ্রিয় হয়েছে। ২০১৮ সালে সেখানে একটি পৃথক যোগ ফেডারেশন গঠিত হয়।

৩০ দিনের ভিসামুক্ত থাকার সুযোগ পেলে ভারতীয় পর্যটকেরা উজবেকিস্তানে কী কী দেখতে পারেন, দেখে নেওয়া যাক।

বিজ্ঞাপন

১. শুরু করুন তাসখন্দ দিয়ে

উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে আধুনিক শহুরে জীবনের সঙ্গে উজবেক, সোভিয়েত এবং ইসলামি ইতিহাসের মিশেল দেখা যায়। শহরের অন্যতম আকর্ষণ তাসখন্দ মেট্রো। এখানকার বিভিন্ন স্টেশন মোজাইক, ঝাড়বাতি, ভাস্কর্য এবং দেয়ালচিত্রে সাজানো।

সমরকন্দে রেজিস্তান।

২. সমরকন্দের রেজিস্তান দেখুন

উজবেকিস্তানের ছবি দেখলেই যে জায়গাটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তার মধ্যে রেজিস্তান স্কোয়ার অন্যতম। সমরকন্দের ঐতিহাসিক কেন্দ্র ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। রেজিস্তান, বিবি-খানুম মসজিদ, শাহি-জিন্দা এবং গুর-ই-আমির সমাধিসৌধ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

৩. বুখারার অলিগলিতে ঘুরুন

বুখারা মধ্য এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সিল্ক রোড শহর। শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্র জুড়ে রয়েছে মাদ্রাসা, মসজিদ, বাজার, কাফেলা সরাই এবং পুরনো বাণিজ্যিক গম্বুজ। নির্দিষ্ট সময়সূচি না মেনে নিজের মতো করে ঘুরতে পছন্দ করেন এমন পর্যটকদের জন্য বুখারা বিশেষ আকর্ষণীয়।

৪. উজবেকিস্তানের স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন

খাদ্যপ্রেমীদের জন্যও উজবেকিস্তান বেশ আকর্ষণীয়। শুরু করতে পারেন প্লভ দিয়ে। চাল দিয়ে তৈরি এই জনপ্রিয় খাবারটির দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে নানা রকমের বৈচিত্র্য।

এ ছাড়া রয়েছে মাংস বা কুমড়োর পুর দেওয়া ভাপে রান্না করা ডাম্পলিং মান্তি এবং কাঠিতে গেঁথে আগুনে ঝলসানো মাংসের শাশলিক।

ফারগানা উপত্যকা।

৫. ফারগানা উপত্যকা ঘুরে দেখুন

চেনা পর্যটনপথের বাইরে কিছু দেখতে চাইলে যেতে পারেন ফারগানা উপত্যকায়। রিশতানে উজবেকিস্তানের বিখ্যাত মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায়। মার্গিলানে ইয়োদগোরলিক সিল্ক কারখানায় গিয়ে ঐতিহ্যবাহী রেশম তৈরির প্রক্রিয়াও দেখা যায়।

৬. মরুভূমিতে ইয়ার্টে রাত কাটান

একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতার জন্য মরুভূমির দিকে যেতে পারেন। ইয়ার্ট শিবিরে ঐতিহ্যবাহী গোলাকার তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে স্থানীয় খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মরুভূমিতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ব্যবস্থাও থাকে।

৩০ দিনের সুযোগে বদলাতে পারে ভ্রমণের পরিকল্পনা

আগে উজবেকিস্তানকে অনেক ভারতীয় পর্যটক হয়তো স্বল্পমেয়াদি ছুটির গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। ৩০ দিনের ভিসামুক্ত থাকার সুযোগ চালু হলে সেই ধারণা বদলাতে পারে। তাসখন্দ, সমরকন্দ ও বুখারার পাশাপাশি ফারগানা উপত্যকা এবং মরুভূমি ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকেরা আরও বেশি সময় হাতে পাবেন।

তবে উজবেকিস্তানে যাওয়ার আগে ভারতীয় পর্যটকদের অবশ্যই ভিসামুক্ত প্রবেশের চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ, পাসপোর্টের মেয়াদ, সফরের অনুমোদিত উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রবেশ সংক্রান্ত শর্ত উজবেক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *