ছবির উৎস, AFP via Getty Images
Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ৬ হাজার কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল মজুত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
“এই ঐতিহাসিক লেনদেন আমেরিকার তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে, আমাদের তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে এবং সব আমেরিকানের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে,” ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলেছেন।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি তার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুতের অধিকারী ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ কাজে লাগানোর কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপও বেশ বাড়ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তেল চুক্তিকে ‘আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার উভয় জনগণের জন্য একটি বিশাল বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য এই চুক্তি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে, হাজার হাজার উচ্চ-বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আনবে”।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে’ ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন।
তবে তিনি এই অংশীদারিত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতি বা শর্তগুলোও তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
তিনি শুধু দাবি করেছেন, এই চুক্তি ‘আমেরিকান করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই’ সম্পন্ন হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই চুক্তি তার দেশের পুনরুজ্জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
এর মাধ্যমে দেশটির হাইড্রোকার্বন শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে বিনিয়োগ আসবে।
তিনি বলেছেন যে, এই চুক্তির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা আছে এমন ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি এতে একশ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ও রাষ্ট্রের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আসবে।
ছবির উৎস, ames Cooke/BBC
“এই বিনিয়োগ শুধু আমাদের শিল্পের পুনরুদ্ধার কিংবা আধুনিকায়নেই অবদান রাখবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সমগ্র অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ভারসাম্য আনতেও সহায়তা করবে,” বলেছেন তিনি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, এই চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার একটি ‘অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের’ সঙ্গে গঠিত যৌথ উদ্যোগের ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকার ধরে রাখবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, রদ্রিগেজ এই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্রগুলো পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমোদন দিয়েছেন।
গত তেসরা জানুয়ারি, ট্রাম্পের অনুমোদিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়।
অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেছিলেন, একটি ‘নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল বিক্রির ওপর অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
ছবির উৎস, Getty Images
ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল।
তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
ট্রাম্প মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে বলেছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে।
তার অভিযোগ, দেশটি অতীতে ‘একতরফাভাবে আমেরিকান তেল, আমেরিকান সম্পদ এবং আমেরিকান তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছে’, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ক্ষতি হয়েছে।
