বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে। ফলে সাধারণ ফ্লু-ও কখনও কখনও প্রবীণদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা অন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের অসুখ বা কিডনির সমস্যার মতো শারীরিক সমস্যা থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই ৬০ বছর পেরনোর পর প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া শুধু রোগ প্রতিরোধের বিষয় নয়, গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমানোরও উপায়।

এ বছর এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বেড়েছে। দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০টি ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। রাজধানীতে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ-এর প্রকারগুলির মধ্যে এইচ১এন১-ই বেশি দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রবীণদের এবং আগে থেকেই অন্য কোনও ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ টিকা নিলেই সংক্রমণ হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। মূল লক্ষ্য হল সংক্রমণ হলেও যাতে তা গুরুতর আকার না নেয়।

আরও পড়ুন:

vaccines for adults over 60 flu season
বয়স ৬০ পেরলোই জরুরি টিকাকরণ। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের কথায়, প্রতি বছর টিকা নেওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের কার্যকর উপায়। এই সময়ে ফ্লুয়ের প্রকোপ মনে করিয়ে দিচ্ছে, নতুন কোনও ভাইরাস না এলেও পরিচিত ভাইরাস যথেষ্ট সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, ফ্লুয়ের মরসুম শুরু হওয়ার আগে প্রতি বছর জুলাইয়ের দিকে অ্যান্টি-ফ্লু টিকা নেওয়া উচিত।

ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা
বয়স ৬০ পেরলে সবচেয়ে আগে যে টিকার কথা ভাবতে হয়, তার মধ্যে অন্যতম ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা। বয়স বাড়লে ফ্লু থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে আগে থেকে থাকা হৃদ্‌রোগ বা ফুসফুসের অসুখও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের, বিশেষ করে যাঁদের অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া উচিত। বর্তমানে ত্রিভ্যালেন্ট ও কোয়াড্রিভ্যালেন্ট, দু’ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা রয়েছে।

কোয়াড্রিভ্যালেন্ট টিকা চারটি স্ট্রেনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। তবে কার জন্য কোন টিকা উপযুক্ত, তা শারীরিক অবস্থা ও টিকার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত।

vaccines for adults over 60 flu season
টিকায় কমে রোগের জটিলতা। ছবি: সংগৃহীত

নিউমোকক্কাল টিকা
ফ্লুয়ের পাশাপাশি নিউমোকক্কাল সংক্রমণ থেকেও বয়স্কদের সুরক্ষিত রাখা জরুরি। স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া নামের ব্যাকটেরিয়া থেকে এই সংক্রমণ হয়। এর ফলে নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, এমনকী রক্তে গুরুতর সংক্রমণও হতে পারে।

বয়স বাড়লে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ বা কিডনির অসুখ থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি। ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ সংক্রান্ত সুপারিশেও বয়স্ক ও উচ্চঝুঁকির ব্যক্তিদের নিউমোকক্কাল টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান নির্দেশিকায় পিসিভি-২০ একটি বিকল্প। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে পিসিভি-১৩-এর পর পিপিএসভি-২৩ দেওয়া হয়। তবে কোনটি প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং আগে টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, তার উপর নির্ভর করে।

vaccines for adults over 60 flu season
চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিন টিকা। ছবি: সংগৃহীত

টিড্যাপ টিকা
টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং হুপিং কাশি বা পারটুসিস থেকে সুরক্ষা দেয় টিড্যাপ টিকা। ছোটবেলায় টিকা নেওয়া থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগগুলির বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে পারে। আগে টিড্যাপ না নেওয়া থাকলে চিকিৎসক একটি ডোজ নেওয়ার পর প্রতি ১০ বছর অন্তর টিডি বা টিড্যাপের বুস্টার নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। তবে আগের টিকাকরণের ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী সময়সূচি বদলাতে পারে।

কোভিড টিকা
কোভিড-১৯ এখনও প্রবীণ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেটেড কোভিড টিকা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য দিতে পারে। তবে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং দেশের টিকাকরণ নীতির সঙ্গে টিকা নেওয়ার সময় ও প্রয়োজনীয়তা বদলাতে পারে। তাই সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা মেনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকা নেওয়াই নিরাপদ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *