ব্যবসা করার স্বপ্ন বা শখ অনেকের থাকে, কিন্তু সে স্বপ্ন সাকার করার জন্য দরকার হয় অদম্য ইচ্ছা। বাধার পর বাধা কাটিয়ে কীভাবে লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয়, কীভাবে মাথা উঁচু রেখে সব ঝড়-ঝাপটা সামলাতে হয়, সেটাই কার্যত দেখিয়ে দিয়েছেন রাজমোহন পিল্লাই।

‘বেটা গ্রুপে’র কর্ণধার রাজমোহন পিল্লাই কার্যত এক নজির তৈরি করেছেন তাঁর কেরিয়ারে। পরিবারের বিপুল ঋণের বোঝা সামলে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন নিজের সংস্থাকে। তাঁর পারিবারিক ব্যবসা আজ ২০০ কোটির টার্নওভারের সাক্ষী।

বেটা গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজমোহন পিল্লাই। মূলত কাজু প্রসেসিং ও অন্যান্য বাদামের ব্যবসায় রয়েছে এই সংস্থার। বিদেশে রফতানি করে থাকে এই বেটা গ্রুপ। তবে আজ যে সংস্থা এই বিপুল লাভের মুখ দেখছে, এমনটা চিরকাল ছিল না। বিশেষত রাজমোহন যখন মাত্র ১৮ বছর বয়সে বাধ্য হয়ে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন, তখন তাঁর কাঁধে ছিল বিপুল ঋণের বোঝা।

বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বি কম প্রথম বর্ষের ছাত্র রাজমোহনকে একরকম বাধ্য হয়েই ব্যবসার হাল ধরতে হয়। সেই সময় তাঁর পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি টাকা আর ঋণের বোঝা ছিল ৪০ কোটির। সংস্থার মাথার উপর ছিল ১৭৫টি মামলা। তাঁদেক সম্পত্তি, এমনকী গাড়িও বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় সেই সময়। সংস্থার কর্মীদের বেতন দেওয়াই ছিল রাজমোহনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

যখন ঋণ বা ব্যাঙ্ক ব্যালান্সের অঙ্ক সেভাবে বুঝে উঠতে পারেননি, তখনই মাসে মাসে ৪৪ লক্ষ টাকা করে শুধুমাত্র সুদ দিতে হয়েছে তাঁকে। তবে কখনও হাল ছেড়ে দেননি তিনি। এক-দুই বছর নয়, ২৭ বছর ধরে ঋণ মেটাতে হয়েছে তাঁকে।

ব্যবসা বাড়ানো নয়, পরিবার ও সংস্থাকে ঋণ-মুক্ত করাই একটাট সময় ছিল চ্যালেঞ্জ। এভাবেই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে তাঁর। লাভের অঙ্কও বেড়েছে একটু একটু করে।

তবে এই এগিয়ে চলার পথে রাজমোহন বারবার বলেছেন, তাঁর মায়ের অবদানের কথা। শিশু বয়সে ডিসলেক্সিয়ায় ভোগা রাজমোহনের লড়াইতে বরাবর পাশে থেকেছেন তিনি। বিশেষত দাদার মৃত্যুর পর দায়িত্ব দ্বিগুণ হয়ে যায় রাজমোহনের। সবদিক সামলে তিনি তৈরি করেন বেটা গ্রুপ। আজ তারই লাভের অঙ্ক বছরে ২০০ কোটি ডলার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *