ভারত: ৫ (হরমনপ্রীত সিং ২, অভিষেক ২, হার্দিক সিং) পাকিস্তান: ৩ (হানান শাহিদ ২, সুফিয়ান খান)
খবর অনলাইন ডেস্ক: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে এফআইএইচ পুরুষ হকি বিশ্বকাপে দাপুটে জয় তুলে নিল ভারত। বুধবার পুল ডি-তে নিজেদের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক হকি খেলল ভারতীয় দল। অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং এবং অভিষেক দু’টি করে গোল করেন। ভারতের হয়ে আরও একটি গোল করেন সহ-অধিনায়ক হার্দিক সিং। পাকিস্তানের হয়ে জোড়া গোল করেন হানান শাহিদ এবং একটি গোল করেন সুফিয়ান খান। ৩ ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ (২টি ম্যাচে জয়, ১টিতে হার) করে দ্বিতীয় স্থান দখল করে পুল ডি থেকে পরবর্তী রাউন্ডে চলে গেল ভারত।
– বিজ্ঞাপন –
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভারত
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারত বুঝিয়ে দেয়, তারা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছে। শুরু থেকেই আক্রমণের গতি ও তীব্রতা বজায় রাখে ভারতীয় দল। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং।
এর পাঁচ মিনিট পর, ১১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিষেক। ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরে তিনিই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
অভিষেকের গোলটি ছিল বিশেষ ভাবে নজরকাড়া। একটি দীর্ঘ এরিয়াল বল পাকিস্তানের বৃত্তের মধ্যে পেয়ে যান তিনি। এর পর বলটি নিয়ন্ত্রণ করে সামনে এগিয়ে যান অভিষেক। তাঁর দিকে পাকিস্তানের একাধিক খেলোয়াড় এগিয়ে এলে তিনি ক্রস করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাকিস্তানের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হয় এবং সেটি পোস্টের ভিতরে ঢুকে যায়।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চার গোল
দ্বিতীয় কোয়ার্টার ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। এই কোয়ার্টারেই মোট চারটি গোল হয়—ভারত ও পাকিস্তান দু’দলই দু’টি করে গোল করে।
বিজ্ঞাপন
২১ মিনিটে আবারও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন হরমনপ্রীত। এবার তিনি জুগরাজ সিংয়ের দিকে একটি চতুর ব্যাক পাস দেন। জুগরাজের শট সরাসরি পাকিস্তানের গোলরক্ষকের দিকে চলে যায়। তবে রিবাউন্ড থেকে ভারত ফের বলের দখল নেয়।
এর পর ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের বৃত্তের মধ্যে এক দিক থেকে অন্য দিকে দ্রুত বল ঘোরাতে থাকেন। সেই সময় একেবারে ফাঁকায় থাকা হরমনপ্রীত বল পেয়ে জোরালো শট নেন। তাঁর সেই শক্তিশালী শট পাকিস্তানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।
পাকিস্তানের পাল্টা জবাব
ভারতের ৪-০ লিডের পর পাকিস্তানও পাল্টা আক্রমণে আসে। ২২ মিনিটে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম গোল করেন হানান শাহিদ। এতে ভারতের লিড কমে দাঁড়ায় ৪-১।
তবে পাকিস্তানের গোলের পর খুব বেশি সময় নেয়নি ভারত। ২৪ মিনিটেই অভিষেক নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে ফের তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখল ভারত। ছবি Hockey India ‘X’ থেকে নেওয়া।
এই গোলেও অভিষেকের বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা নজর কাড়ে। বল দখলে রেখে তিনি দুর্দান্ত ভাবে এগিয়ে যান এবং শেষপর্যন্ত পাকিস্তানের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হলে সেটি জালে ঢুকে যায়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তান আবার গোল করে। ২৪ মিনিটেই পাওয়া পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন সুফিয়ান খান। ফলে ভারত ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
হার্দিকের পেনাল্টি স্ট্রোক
এর পর ভারত আরও একটি গোলের সুযোগ পায়। পাকিস্তানের বৃত্তের মধ্যে আদিত্য লালাগেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফাউল করা হলে ভারত পেনাল্টি স্ট্রোক পায়।
৩৫ মিনিটে সেই পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন ভারতের সহ-অধিনায়ক হার্দিক সিং। এর ফলে ভারত ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে।
শেষ কোয়ার্টারে পাকিস্তানের গোল
চতুর্থ কোয়ার্টারে পাকিস্তান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৪৬ মিনিটে হানান শাহিদ নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৩।
শেষ পাঁচ মিনিটে ভারতকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। আদিত্য লালাগে হলুদ কার্ড দেখায় মাঠে একজন খেলোয়াড় কমে যায় ভারতের। এই সুযোগে পাকিস্তান চাপ তৈরি করার চেষ্টা করলেও ভারতীয় রক্ষণভাগ আর কোনও গোল হতে দেয়নি।
শেষপর্যন্ত ভারত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংয়ের জোড়া গোল, অভিষেকের দুর্দান্ত দুই গোল এবং হার্দিক সিংয়ের পেনাল্টি স্ট্রোকের গোল ভারতকে দারুণ জয় এনে দেয়। অভিষেকের অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।
পুল ডি-র শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয় ভারতের আক্রমণাত্মক শক্তি ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতারই প্রমাণ রাখল।
