শারদীয় আগত দ্বারে। অক্ষয় তৃতীয়া, রথযাত্রা এইগুলি এসে যাওয়া মানেই দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। দিকে দিকে পুজো উদ্যোক্তারা আয়োজন করতে শুরু করেন দুর্গাপুজোর প্রারম্ভিক অনুষ্ঠান খুঁটী পুজো। রবিবার তেমনটি প্রারম্ভিক পুজোতে আমন্ত্রণ পেয়ে উপস্থিত হয়েছিল খবর অনলাইন। পুজো উদ্যোক্তা সিঁথি আটাপাড়া উন্নয়ন সমিতি। তাদের ৬১তম বর্ষে পদার্পণ।
মহিলা পরিচালিত একটি পুরোনো পুজো আটাপাড়া উন্নয়ন সমিতি। এই দিনের অনুষ্ঠানে নিষ্ঠা মেনে পুজো সমাপনের পর উন্মোচন করা হয় পুজোর ব্যানার।
পুজোর সাধারণ সম্পাদক প্রিতম দাস জানান, প্রতি বছরই নিষ্ঠা ভরেই পুজো করেন তাঁরা। লক্ষ্যই থাকে বহু দর্শকরা যাতে সুষ্ঠ ভাবে প্রতিমা ও মণ্ডপ দর্শন করেওতে পারেন। এই বছরও সেদিকেই নজর থাকবে তাঁদের। সেই উপলক্ষ্যেই এই বছরের পুজোর ক’টা দিন তাঁরা দর্শনার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছেন। সেই আয়োজনের অঙ্গ হিসেবেই রয়েছে, হুইল চেয়ারের বযবস্থা। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, পুজো, থিম সমস্তটা তো আছেই। তার ওপরে রয়েছে সকলের ভালো থাকা ভালো লাগা। প্রত্যেকের মুখের হাসি। সেই জন্যই, যাঁরা সারা বছর এক প্রকার ঘরেই থাকেন, শুধু পুজোর ক’টা দিন কাছে পিঠের অল্প কয়েকটি ঠাকুর দেখে নিজের উৎসবটাকে উপভোগ করতে চান তাঁরা হলেন আমাদের বাড়ির সকল বয়োজ্যেষ্ঠরা। তাঁরা চলা ফেরার সমস্যার কারণে ভিড় মণ্ডপে ঢুকতে পারেন না, বা বিভিন্ন অসুবিধেতে পরেন। তার ফলে মণ্ডপের ঠাকুর দেখা তাঁদের সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেই জন্যই আটাপাড়া উন্নয়ন সমিতির বিশেষ দৃষ্টি থাকবে সে দিকেই। তাঁরা মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে আসা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রেখেছেন। যদি রাস্তার যানজটের জন্য সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে মন্ডপের সভ্যবৃন্দ হুইল চেয়ার নিয়ে গিয়ে তাঁদের নিয়ে আসবেন মণ্ডপে ঠাকুরের কাছ পর্যন্ত।
প্রিতম বলেন, এই বছরের পুজোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবনার তাঁরা নাম দিয়েছেন, ‘আলিম্পন’। সংস্কৃততে যার অর্থ আলপনা। এই আলপনা পুজোর্চনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত। এই সহজ সাধারণ বিষয়টিকেই এক অভিনব রূপে স্থান দেওয়া হবে মণ্ডপে ও প্রাঙ্গনে।
এই বছরের থিম নকশা করেছেন, শিল্পী অভি মাইতি। প্রতিমার রূপ দেবেন অলোক দে।
প্রিতম আরও বলেন, বিগত বছরে আটাপাড়া উন্নয়ন সমিতি একাধিক পুজো সম্মান লাভ করেছে। এমনকি পরিবেশ বান্ধব পুজো করায় সম্মানিতও হয়েছে। এই বছরও লক্ষ্য যেন পুজোটিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা যায় ও সাফল্যকে ছোঁয়া যায়।
