ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে বিস্মৃত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম দুকড়ি বালা দেবী। সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে না নেমেও কীভাবে এক সাধারণ নারী ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর জীবন তারই অনন্য উদাহরণ।

স্বদেশি আন্দোলনের আবহে দুকড়ি বালা দেবীর সঙ্গে বিপ্লবীদের যোগাযোগ তৈরি হয়। তাঁর বাড়ি হয়ে ওঠে ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিপ্লবীদের আশ্রয় নেওয়ার একটি নিরাপদ জায়গা। বিপ্লবী নিবারণ ঘটকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ আরও গভীর হয়।

– বিজ্ঞাপন –

১৯১৪ সালে কলকাতার রডা কোম্পানির অস্ত্র লুণ্ঠনের পর বিপ্লবীদের হাতে আসা কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তাঁর বাড়িতে গোপনে রাখা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। ব্রিটিশ পুলিশ অবশ্য বেশিদিন বিষয়টি অজানা রাখেনি। ১৯১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় দুকড়ি বালা দেবীকে।

সবচেয়ে মর্মস্পর্শী বিষয়, তাঁর সন্তান তখনও ছোট। সন্তানকে রেখে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। অস্ত্র আইনে বিচারের পর তাঁর কারাদণ্ড হয়। কিন্তু কারাগারে নানা চাপ ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বিপ্লবীদের সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি।

দুকড়ি বালা দেবীর সংগ্রামের বিশেষত্ব এখানেই—তিনি হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নামেননি, কিন্তু নিজের ঘর, সাহস এবং নিরাপত্তাকে বিপ্লবীদের লড়াইয়ের জন্য উজাড় করে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরও তাঁর জীবন স্বচ্ছল হয়নি। আর্থিক অনটন ও অসুস্থতার মধ্যেই ১৯৭০ সালে তাঁর জীবনাবসান হয়।

দুকড়ি বালা দেবীর কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতার লড়াই শুধু বন্দুক হাতে যুদ্ধ করা মানুষের ছিল না। অসংখ্য সাধারণ নারী তাঁদের ঘর, পরিবার, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে সেই সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *