অসমের মাটিতে স্বাধীনতার লড়াইয়ে এক অনন্য নাম কুশল কোঁয়র। গান্ধীবাদী এই স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং একটি সামরিক ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৩ সালের ১৫ জুন ভোর সাড়ে ৪টেয় জোরহাট জেলে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি সম্ভবত একমাত্র।
১৯৪২ সালের ১০ অক্টোবর গোলাঘাট জেলার সরুপাথরের কাছে রেললাইনের কয়েকটি স্লিপার সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই পথে যাওয়া একটি সামরিক ট্রেন লাইনচ্যুত হয় এবং বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনা নিহত হন। ব্রিটিশ পুলিশ এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে কুশল কোঁয়রকে অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করে।
– বিজ্ঞাপন –
কুশল কোঁয়র ছিলেন গভীর ভাবে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শে অনুপ্রাণিত। সরকারি নথিতে তাঁকে সত্যাগ্রহী ও গান্ধীবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লবণ সত্যাগ্রহের সময় থেকেই তিনি গান্ধীর আদর্শ অনুসরণে আরও কঠোর জীবনযাপন শুরু করেছিলেন। এমনকি তিনি লবণ গ্রহণও বন্ধ করেছিলেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ব্রিটিশ আদালতের রায়ের পর নির্ধারিত হয় তাঁর মৃত্যুদণ্ড। ১৯৪৩ সালের ১৫ জুন, ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে জোরহাট জেলের ফাঁসির মঞ্চে শেষ হয় তাঁর জীবন। সেই জেল আজও অসমের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্মৃতিবাহী স্থান।
দেশ স্বাধীন হওয়ার বহু দশক পরেও কুশল কোঁয়রের আত্মত্যাগ অসমের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা বহন করে। তাঁর নামে সরুপাথরে স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগও নিয়েছে অসম সরকার।
ফাঁসির দড়ি তাঁর জীবন থামিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য তাঁর আত্মত্যাগকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে পারেনি।
