খবর অনলআইন ডেস্ক: আগামী মাসে দেশ জুড়ে ‘ক্যা বোলতি পাবলিক’ নামে একটি জনসংযোগ অভিযান শুরু করবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা, মতামত এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজের বাসভবনে অনুষ্ঠিত সিজেপির কোর টিমের দু’দিনের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন অভিজিৎ দীপকে। বুধবার থেকে তাঁর বাড়িতে কোর টিমের বৈঠক চলছিল। দীপকে বলেন, ‘ক্যা বোলতি পাবলিক’ অভিযানের মাধ্যমে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মতামত এবং তাঁদের প্রধান সমস্যাগুলি জানার চেষ্টা করবে সিজেপি।

– বিজ্ঞাপন –

যন্তর মন্তরে আন্দোলনে সাফল্য  

দীপকে দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাঁর কথায়, গত ১০-১২ বছরে মানুষের মনে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা এখন ভেঙে গিয়েছে। মানুষ এখন রাস্তায় নেমে নিজেদের দাবি জানাতে সাহস পাচ্ছেন। আজ একজনের পদত্যাগ দাবি হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও অনেকের পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে।

দলের আদর্শ প্রসঙ্গে দীপকে বলেন, সিজেপি ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর উন্নত ভারতের ভাবনা অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধানই দলের মূল আদর্শ। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস, মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা-সহ অন্য প্রতিনিধিরা।

গত মাসে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন হয়। দীপকের দাবি, ওই আন্দোলনের ফলেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে। তিনি জানান, ওই আন্দোলনে শুধু পড়ুয়ারাই নন, বহু বেকার যুবক-যুবতীও যোগ দিয়েছিলেন।

দীপকের মতে, দেশের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব। তাই এই বিষয়টিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চায় সিজেপি। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিও তুলেছে সংগঠন। তাঁর অভিযোগ, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং শিক্ষাকে লাভের ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যে কাজ করবে সিজেপি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নীচে। যন্তর মন্তরের আন্দোলনেও এই তরুণ প্রজন্মের বড়ো অংশ অংশগ্রহণ ছিল। একই সঙ্গে দেশের সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অভিজিৎ দীপকে হলেন সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক

এ দিকে, সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে-কে জাতীয় আহ্বায়ক করা হয়েছে। দলের প্রধান মুখপাত্র ২৭ বছর বয়সি সৌরভ দাস এবং ৩০ বছর বয়সি আশুতোষ রাঙ্কাকে সহ-আহ্বায়ক করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত সিজেপিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করা হবে না। বরং তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকেই জোর দেওয়া হবে।

নতুন কমিটিতে ৩৫ বছর বয়সি অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে জাতীয় সংগঠন ইন-চার্জ এবং ২৬ বছর বয়সি দীপক বালিয়ানকে সংগঠন সহ-ইন-চার্জ করা হয়েছে। এ ছাড়া আফরিন নওয়াজকে জাতীয় সম্পাদক, বিজয় রেড্ডি মল্লাঙ্গিকে মিডিয়া প্রধান, রত্না সিংহকে আইন বিষয়ক প্রধান, বৈষ্ণবী গৌরকে গবেষণা ও নীতি বিষয়ক প্রধান, রোহন দেশপাণ্ডেকে প্রযুক্তি প্রধান এবং যোগেশ ইংলেকে অর্থ বিষয়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিম—এই চারটি অঞ্চলের জন্য পৃথক নেতৃত্বের দায়িত্বও নির্ধারণ করেছে সিজেপি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *