একের পর এক পরীক্ষায় অনিয়ম। গত দু’বছর ধরে চরম নৈরাজ্য চলছে ঝাড়খণ্ডে। অবশেষে পথে নেমে প্রতিবাদের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে পড়ুয়ারা। তাদের দাবি, পরীক্ষা ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে এসেছে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের প্রতিবাদ। তাঁদের সমর্থনের বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। সরকারের কাছে মূলত ৩টি দাবি জানানো হয়। যেগুলি হল, ১. সিবিআই, ইডিকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত। ২. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। ৩. পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যোগ্য প্রার্থীদের বিচার দিতে হবে। ঘটনার প্রতিবাদে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। অনশনে বসেছেন ঝাড়খণ্ডের ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।
আরও পড়ুন:
পড়ুয়াদের আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছে না সরকার, এমনটাই মত ছাত্রদের। সেকারণেই মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা চাইছেন তাঁরা। আন্দোলনের মাঝেই রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হেমন্ত। লোকভবনের তরফ থেকে জানানো হয়, ‘পরীক্ষায় এহেন অনিয়মের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যেন সংশয়ের লেশমাত্র না থাকে, এমনভাবে কাজ করা উচিত নিয়ামক সংস্থাগুলির।’ সূত্রের খবর, হেমন্ত ইতিমধ্যেই রাজ্যপালকে আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রতিবাদীদের দাবি খতিয়ে দেখা হবে।
কিন্তু পড়ুয়ারা সেই আশ্বাসে ভরসা রাখতে চাইছেন না। তাঁরা বলছেন, “আমরা কথা বলতে রাজি। কিন্তু সরকার আমাদের দাবি পূরণে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা চাই, তিনি এই পদে থাকার যোগ্য নন।” দাবি পূরণ না হলে বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন পড়ুয়ারা। হেমন্তের অপসারণ চেয়ে ইতিমধ্যেই তিরঙ্গা যাত্রা করেছেন তাঁরা। সংসদ ভবন অভিযানের ধাঁচে এবার বিধানসভা ঘেরাও করবেন ছাত্ররা, আগামী সোমবার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
